পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক ט 8 מ সে-বছরে ফাকা পেছু কিছু টাকা করিয়া দালাল-গিরি । করিলাম মন শ্ৰীবৃন্দাবন বারেক আসিব ফিরি’ । পরিবার তায় সাথে যেতে চায়,—বুঝায়ে বলিষ্ট তারে— পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য —নহিলে খরচ বাড়ে । লয়ে রশারশি করি’ কশা কশি পোটল পুটুলি বাধি’ বলয় বাজায়ে বাক্স সাজায়ে গৃহিণী কহিল কাদি',— “পরদেশে গিয়ে কেষ্টারে নিয়ে কষ্ট অনেক পাবে ।” আমি কহিলাম, “আরে রাম রাম, নিবারণ সাথে যাবে।" রেলগাড়ি ধায় —হেরিলাম হায় নামিয়া বধমানে— কষ্ণকান্ত অতি প্রশাস্ত তামাক সাজিয়া আনে । স্পধ। তাহার হেন মতে আর কত বা সহিব নিত্য । যত তারে দুষি তবু হতু খুশি হেরি' পুরাতন ভূত্য ৷ নামিসু শ্ৰীধামে ; দক্ষিণে বামে পিছনে সমুখে যত লাগিল পাণ্ডা, নিমেষে প্রাণটা করিল কণ্ঠাগত । জন ছয় সাথে মিলি’ একসাথে পরম বন্ধুভাবে করিলাম বাসা, মনে হোলো আশা আরামে দিবস যাবে । কোথা ব্রজবালা, কোথা বনমালা, কোথা বনমালী হরি, কোথা হা হস্ত, চিরবসন্ত, আমি বসস্তে মরি । বন্ধু যে যত স্বপ্নের মতো বাসা ছেড়ে দিল ভঙ্গ । আমি এক ঘরে, ব্যাধি-থরশরে ভরিল সকল অঙ্গ । ডাকি নিশিদিন সকরুণ ক্ষীণ—“কেষ্ট আয় রে কাছে, এতদিনে শেষে আসিয়া বিদেশে প্রাণ বুঝি নাহি বাচে।” হেরি’ তার মুখ ভ'রে ওঠে বুক, সে যেন পরম বিত্ত । নিশিদিন ধ’রে দাড়ায়ে শিয়রে মোর পুরাতন ভূত্য ॥ মুখে দেয় জল, শুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত ; দাড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত ।