পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক। 는 et না জানি সে-কবি জগতের কোণে কোথা ছিল দিবানিশি । লতা-পাতা-চাদ-মেঘের সহিতে এক হয়ে ছিল মিশি' ॥ ফুলের মতন ছিল সে মৌন, মনের আড়ালে ঢাকা, চাদের মতন চাহিতে জানিত নয়ন স্বপন-মাথা । বায়ুর মতন পারিত ফিরিতে অলক্ষ্য মনোরথে ভাবনা-সাধনা-বেদনা-বিহীন বিফল ভ্রমণপথে ॥ মেঘের মতন আপনার মাঝে ঘনীয়ে আপন ছায়া এক বসি’ কোণে জানিত রচিতে ঘনগম্ভীর মায়া ॥ স্থালোকে ভূলোকে ভাবে নাই কেহ আছে সে কিসের খোজে, হেন সংশয় ছিল না কাহারো, সে-যে কোনো কথা বোঝে । বিশ্বপ্রকৃতি তার কাছে তাই ছিলনাকে সাবধানে, ঘন ঘন তার ঘোমটা খসিত ভাবে ইঙ্গিতে গানে ॥ বাসরঘরের বাতায়ন যদি খুলিয়া যাইত কতু দ্বারপাশে তারে বসিতে দেখিয়া রুধিয়া দিত না তৰু ৷ যদি সে নিভৃত শয়নের পানে চাহিত নয়ন তুলি শিয়রের দীপ নিবাইতে কেহ ছড়িত না ফুল-ধূলি । শশী যবে নিত নয়নে নয়নে কুমুদীর ভালবাস। এরে দেখি হেসে ভাবিত এ লোক জানে না চোখের ভাষা। নলিনী যখন খুলিত পরান চাহি তপনের পানে ভাবিত এ জন ফুলগন্ধের অর্থ কিছু না জানে । তড়িৎ যখন চকিতে নিমেষে পালাত চুমিয়া মেঘে, ভাবিত, এ খাপ কেমনে বুঝিবে কী আছে অগ্নিবেগে । সহকারশাখে কাপিতে কঁাপিতে ভাবিত মালতীলতা আমি জানি আর তরু জানে শুধু কলমৰ্মর-কথা ॥