পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


wo চয়নিক ما ه جن একদা ফাগুনে সন্ধ্যা-সময়ে স্থর্য নিতেছে ছুটি, পূর্ব গগনে পূর্ণিমা চাদ করিতেছে উঠি-উঠি ; কোনো পুরনারী তরু-আলবালে জল সেচিবার ভানে ছল ক’রে শাখে আঁচল বাধায়ে ফিরে চায় পিছুপানে । কোনো সাহসিকা দুলিছে দোলায় হাসির বিজুলি হানি’ না চাহে নামিতে না চায় থামিতে না মানে বিনয়বাণী । কোনো মায়াবিনী মৃগশিশুটিরে তৃণ দেয় একমনে । পাশে কে দাড়ায়ে চিনেও তা হারে চাহে না চোথের কোণে ॥ হেনকালে কবি গাহিয়া উঠিল – নরনারী, শুন সবে, কতকাল ধ’রে কী-যে রহস্য ঘটিছে নিখিল ভবে । এ কথা কে কবে স্বপনে জানিত —আকাশের চাদ চাহি” পাণ্ডু-কপোল কুমুদীর চোখে সারা রাত নিদ নাহি । উদয়-অচলে অরুণ উঠিলে কমল ফুটে-যে জলে । এতকাল ধ’রে তাহার তত্ত্ব ছাপা ছিল কোন ছলে । এত-যে মন্ত্র পড়িল ভ্রমর নবমালতীর কানে । বড় বড় যত পণ্ডিতজনা বুঝিল না তার মানে । শুনিয়া তপন অস্তে নামিল শরমে গগন ভরি’ । শুনিয়া চন্দ্র থমকি রহিল বনের আড়াল ধরি’, শুনে সরোবরে তখনি পদ্ম নয়ন মুদিল ত্বরা । দখিন-বাতাসে ব’লে গেল তারে, সকলি পড়েছে ধরা । শুনে ছিছি ব'লে শাখা নাড়ি’ নাড়ি’ শিহরি’ উঠিল লতা, ভাবিল, মুখর এখনি না জানি আরো কী রটাবে কথা । ভ্রমর কহিল যুর্থীর সভায়—যে-ছিল বোবার মতে পরের কুৎসা রটাবার বেলা তারো মুখ ফোটে কত ॥