পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


之文8 চয়নিক। বিধিয়া কাদিয়া উঠে । মুদিয়া নয়ন “নারায়ণ নারায়ণ” করিল স্মরণ । পুত্রে নিল কোলে তুলি—তার সর্বদেহে করুণ কল্যাণ হস্ত বুলাইল স্নেহে । মৈত্র তারে ডাকি ধীরে চুপি চুপি কয়, “ছি ছি ছি, এমন কথা বলিবার নয় ।” রাখাল যাইবে সাথে স্থির হোলো কথা, – অন্নদা লোকের মুখে শুনি’ সে বারতা ছুটে আসি’ বলে, “বাছা, কোথা যাবি ওরে ।” রাখাল কহিল হাসি, “চলিকু সাগরে আবার ফিরিব মাসি ।” পাগলের প্রায় অন্নদা কহিল ডাকি”, “ঠাকুর মশায়, বড় যে তুরস্ত ছেলে রাখাল আমার,— কে তাহারে সামালিবে । জন্ম হতে তার মাসি ছেড়ে বেশিক্ষণ থাকেনি কোথাও; কোথা এরে নিয়ে যাবে । ফিরে দিয়ে যাও ।” রাখাল কহিল—“মাসি, যাইব সাগরে আবার ফিরিব আমি।” বিপ্র স্নেহভরে কহিলেন—“যতক্ষণ আমি আছি ভাই, তোমার রাখাল লাগি? কোনো ভয় নাই । এখন শীতের দিন শাস্ত নদীনদ, অনেক যাত্রীর মেলা—পথের বিপদ কিছু নাই,—যাতায়াতে মাস দুই কাল,— তোমারে ফিরায়ে দিব তোমার রাখাল ।” শুভক্ষণে দুর্গা স্মরি নৌকা দিল ছাড়ি’ । দাড়ায়ে রহিল ঘাটে ষত কুলনারী অশ্র-চোখে । হেমস্তের প্রভাত-শিশিরে ছলছল করে গ্রাম চুণা নদীতীরে ।