পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ミミや চয়নিক আসিল জোয়ার —মাঝি দেবতারে স্মরি’ ত্বরিত উত্তরমুখে খুলে দিল তরী । রাখাল শুধায় আসি ব্রাহ্মণের কাছে, - “দেশে পহুছিতে অণর কত দিন আছে ।” সূর্য অস্ত না যাইতে, ক্রোশ দুই ছেড়ে, উত্তর বায়ুর বেগ ক্রমে উঠে বেড়ে । রূপনারানের মুখে পড়ি’ বালুচর ংকীর্ণ নদীর পথে বাধিল সমব জোয়ারের শ্ৰেণতে আর উত্তরসমীরে উত্তাল উদাম । তরণী ভিড়াও তীরে,— উচ্চকণ্ঠে বারংবার কহে যাত্রী দল । কোথা তীর । চারিদিকে ক্ষিপ্তোন্মত্ত জল আপনার রুদ্রনৃত্যে দেয় করতালি লক্ষ লক্ষ হাতে । আকাশেরে দেয় গালি ফেনিল আক্রোশে । এক দিকে যায় দেখা অতি দূর তটপ্রাস্তে নীল বনরেখা – অন্যদিকে লুব্ধ ক্ষুব্ধ হিংস্র বারিরাশি প্রশাস্ত স্থৰ্যাস্ত পানে উঠিছে উচ্ছ্বাসি’ উদ্ধত বিদ্রোহভরেং" নাহি মানে হাল, - ঘুরে টলমল তরী অশাস্ত মাতাল মূঢ়সম । তীব্র শীত-পবনের সনে মিশিয়া ত্রাসের হিম নরনারীগণে কাপাইছে থরহরি । কেহ হতবাক, কেহ বা ক্ৰন্দন করে ছাড়ি’ উধব ডাক, ডাকি আত্মজনে । মৈত্র শুষ্ক পাংশুমুখে চক্ষু মুদি’ করে জপ । জননীর বুকে ।