পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


きやo চয়নিকা সন্ন্যাসী কহে করুণ বচনে, “অয়ি লাবণ্যপুঞ্জে, এখনো আমার সময় হয়নি, যেথায় চলেছ, যাও তুমি ধনী, সময় যেদিন আসিবে, আপনি যাইব তোমার কুঞ্জে ॥* সহসা ঝঞ্চা তড়িংশিখায় মেলিল বিপুল আস্ত । রমণী কঁাপিয়া উঠিল তরাসে, প্রলয়শঙ্খ বাজিল বা তাসে, আকাশে বজ্র ঘোর পরিহাসে হাসিল অটহাস্য | বর্ষ তখনো হয় নাই শেষ, এসেছে চৈত্রসন্ধ্যা । বাতাস হয়েছে উতলা আকুল, পথ-তরুশাখে ধরেছে মুকুল, রাজার কাননে ফুটেছে বকুল পারুল রজনীগন্ধা ॥ অতি দূর হতে আসিছে পবনে বাশির মদির-মন্দ্র । জনহীন পুরী, পুরবাসী সবে গেছে মধুবনে ফুল-উৎসবে, শূন্য নগরী নিরখি’ নীরবে হাসিছে পূৰ্ণচন্দ্র । নির্জন পথে জ্যোংক্ষা আলোতে সন্ন্যাসী একণ যাত্রী । মাথার উপরে তরুবীথিকার কোকিল কুহরি’ উঠে বারবার, এতদিন পরে এসেছে কি তার আজি অভিসার রাত্রি নগর ছাড়ায়ে গেলেন দণ্ডী বাহির প্রাচীর-প্রান্তে । দাড়ালেন অসি’ পরিখার পারে, আম্রবনের ছায়ার আঁধারে, m কে ওই রমণী প'ড়ে একধারে তাহার চরণোপান্তে ॥