পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२8 ० চয়নিক যেথায় স্থখে তরুণ যুবক পাগল হয়ে বেড়ায়, আড়াল বুঝে আঁধার খুজে সবার আঁখি এড়ায় ; পাখি তাদের শোনায় গীতি, নদী শোনায় গাথা, কত রকম ছন্দ শোনায়, পুষ্প লতা পাতা, সেইখানেতে সরল হাসি সজল চোখের কাছে বিশ্ব-বাশির ধ্বনির মাঝে যেতে কি সাধ আছে । হঠাৎ উঠে উচ্ছুসিয়া কহে আমার গান— সেইখানে মোর স্থান ॥ ( ১৩০৬ ) —ক্ষণিকা সেকাল আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে দৈবে হতেম দশম রত্ব নবরত্বের মালে, একটি শ্লোকে স্তুতি গেয়ে রাজার কাছে নিতাম চেয়ে উজ্জয়িনীর বিজন প্রাস্তে কানন-ঘেরা বাড়ি । রেবার তটে চাপার তলে সভা বসত সন্ধ্যা হোলে, ক্রীড়া-শৈলে আপন মনে দিতাম কণ্ঠ ছাড়ি’ । জীবনতরী বহে যেত মন্দাক্রাস্ত তালে, আমি যদি জন্ম নিতাম কালিদাসের কালে ॥ চিস্তা দিতেম জলাঞ্জলি থাকত নাকে ত্বরা, মৃদুপদে যেতেম, যেন নাইকো মৃত্যু জরা । ছ’টা ঋতু পূর্ণ ক’রে ঘটত মিলন স্তরে স্তরে, ছ’ট সর্গে বাত তাহার রৈত কাব্যে গাথা । বিরহ-দুখ দীর্ঘ হোত, তপ্ত অশ্র নদীর মতো, মন্দগতি চলত রচি’ দীর্ঘ করুণ গাথা ।