পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক ૨88 আষাঢ় মাসে মেঘের মতন মন্থরতায় ভরা জীবনটাতে থাকত নাকে একটুমাত্র ত্বরা ॥ অশোককুঞ্জ উঠত ফুটে প্রিয়ার পদাঘাতে, বকুল হোত ফুল্প, প্রিয়ার মুখের মদিরাতে । প্রিয়সর্থীর নামগুলি সব ছন্দ ভরি’ করিত রব, রেবার কূলে কলহংস-কলধ্বনির মতো । কোনো নামটি মন্দালিক, কোনো নামটি চিত্রলিখা মঞ্জুলিকা মঞ্চরিণী ঝংকারিত কত । আসত তারা কুঞ্জবনে চৈত্র-জ্যোৎস্না-রাতে, অশোক শাখা উঠত ফুটে প্রিয়ার পদাঘাতে ॥ কুরুবকের পরত চুড়া কালে কেশের মাঝে, লীলা-কমল রৈত হাতে কী জানি কোন কাজে । অলক সাজত কুন্দকুলে, শিরীষ পরত কর্ণমূলে, মেখলাতে দুলিয়ে দিত নবনীপের মালা । ধারণযন্ত্রে স্নানের শেষে ধূপের ধোয় দিত কেশে, লোপ্রফুলের শুভ্র রেণু মাথত মুখে বালা । কালাগুরুর গুরুগন্ধ লেগে থাকত সাজে, কুরুবকের পরত মালা কালো কেশের মাঝে ॥ কুকুমেরি পত্ৰলেখায় বক্ষ রৈত ঢাকা, আঁচলখানির প্রাস্তটিতে হংসমিথুন জাকা । বিরহেতে আষাঢ় মাসে চেয়ে রইত বঁধুর আশে একটি ক’রে পূজার পুষ্পে দিন গনিত ব’সে । বক্ষে তুলি বীণাখানি গান গাহিতে ভূলত বাণী, রুক্ষ অলক আশ্রচোখে পড়ত থ’সে থ’সে । মিলন-রাতে বাজত পায়ে নুপুর দুটি বাক, কুকুমেরি পত্ৰলেখায় বক্ষ রৈত ঢাকা । প্রিয় নামটি শিখিয়ে দিত সাধের সারিকারে, নাচিয়ে দিত ময়ুরটিরে কঙ্কণ-ঝংকারে । ט\ צ