পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক । 는 8) কোন স্বরগে নিয়ে গেল বরমাল্যের থাল । হায় রে কবে কেটে গেছে কালিদাসের কাল ॥ যাদের সঙ্গে হয়নি মিলন সে সব বরাঙ্গন৷ বিচ্ছেদেরি দুঃখে আমায় করছে অন্তমনা | তবু মনে প্রবোধ আছে, তেমনি বকুল ফোটে গাছে যদিও সে পায় না নারীর মুখমদের ছিটা । ফাগুন মাসে অশোক ছায়ে অলস প্রাণে শিথিল গায়ে দখিন হতে বাতাসটুকু তেমনি লাগে মিঠা। অনেকদিকেই যায় যে পাওয়া অনেকটা সান্থন, যদিও রে নইেকো কোথাও সে সব বরাঙ্গন ॥ এখন যারা বত মানে আছেন মত লোকে, ভালোই লাগত তাদের ছবি কালিদাসের চোখে । পরেন বটে জুতা মোজা, চলেন বটে সোজা সোজা বলেন বটে কথাবাত অন্য দেশীর চালে, তবু দেখো সেই কটাক্ষ আঁখির কোণে দিচ্ছে সাক্ষ্য যেমনটি ঠিক দেখা যেত কালিদাসের কালে । মরব না ভাই নিপুণিক চতুরিকার শোকে, তারা সবে অন্তনামে আছেন মত্যলোকে । আপাতত এই আনন্দে গবে বেড়াই নেচে, কালিদাস তো নামেই আছেন আমি আছি বেঁচে । তাহার কালের স্বাদগন্ধ আমি তো পাই মৃদু মন্দ, আমার কালের কণামাত্র পাননি মহাকবি । দুলিয়ে বেণী চলেন যিনি এই আধুনিক বিনোদিনী মহাকবির কল্পনাতে ছিল না তার ছবি । প্রিয়ে তোমার তরুণ আঁখির প্রসাদ যেচে যেচে, কালিদাসকে হারিয়ে দিয়ে গর্বে বেড়াই নেচে ॥ ( ১৩৪৬ ) —ক্ষণিকা ।