পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক ९९१ কল্যাণী বিরল তোমার ভবনখানি পুষ্পকানন মাঝে, হে কল্যাণী, নিত্য আছ আপন গৃহকাজে । বাইরে তোমার আম্রশাখে স্নিগ্ধরবে কোকিল ডাকে, ঘরে শিশুর কলধ্বনি আকুল হর্ষভরে । সর্বশেষের গানটি আমার আছে তোমার তরে ॥ প্রভাত আসে তোমার স্বারে পূজার সাজি ভরি’, সন্ধ্য আসে সন্ধ্যারতির বরণডালা ধরি’ । সদা তোমার ঘরের মাঝে একটি নীরব শঙ্খ বাজে, কাকন দুটির মঙ্গল গীত উঠে মধুর স্বরে । রূপসীরা তোমার পায়ে রাখে পূজার থালা, বিদুষীরা তোমার গলায় পরায় বরণমালা । ভালে তোমার আছে লেখা পুণ্যধামের রশ্মিরেখা, স্বধাক্ষিঞ্চ হৃদয়খানি হাসে চোখের পরে ॥ তোমার নাহি শীতবসন্ত, জরা কি যৌবন, সর্বঋতু সর্বকালে তোমার সিংহাসন । নিভেনাকে প্রদীপ তব, পুষ্প তোমার নিত্যনব, অচলা শ্ৰী তোমায় ঘেরি’ চির বিরাজ করে । নদীর মতো এসেছিলে গিরিশিখর হতে, নদীর মতো সাগরপানে চলো অবাধ স্রোতে । একটি গৃহে পড়ছে লেখা সেই প্রবাহের গভীর রেখা, দীপ্ত শিরে পুণ্যশীতল তীর্থ সলিল ঝরে ॥ তোমার শাস্তি পান্থজনে ডাকে গৃহের পানে, তোমার প্রীতি ছিন্ন জীবন গেথে গেথে আনে । আমার কাব্যকুঞ্জবনে কত অধীর সমীরণে, কত যে ফুল, কত আকুল মুকুল খ’সে পড়ে। ( و ۰ تا د ) ›ዓ —ক্ষণিকা ।