পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১০

চয়নিকা

ওই-যে হৃদয় মোর আহ্বান শুনিতে পায়, 
কে আসিবি, কে আসিবি, তোরা কে আসিবি আয়। 
পাষাণ বাঁধন টুটি’, ভিজায়ে কঠিন ধরা, 
বনেরে শ্যামল করি’, ফুলেরে ফুটায়ে ত্বরা, 
সারা প্রাণ ঢালি’ দিয়া, জুড়ায়ে জগৎ-হিয়া 
আমার প্রাণের মাঝে কে আসিবি আয় তোরা। 

আমি যাব—আমি যাব—কোথায় সে, কোন্ দেশ— 
জগতে ঢালিব প্রাণ, গাহিব করুণা গান 
উদ্বেগ-অধীর হিয়া
সুদূর সমুদ্রে গিয়া
সে প্রাণ মিশাব, আর সে-গান করিব শেষ। 
ওরে চারিদিকে মোর,
এ কী কারাগার ঘোর,
ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত কর্ 
ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি, 
এসেছে রবীর কর।

—প্রভাত-সংগীত

প্রভাত-উৎসব

হৃদয় আজি মোর কেমনে গেল খুলি’।
জগৎ আসি সেথা করিছে কোলাকুলি।
ধরায় আছে যত মানুষ শত শত
আসিছে প্রাণে মম, হাসিছে গলাগলি।
এসেছে সখা সখী বসিয়া চোখোচোখি,
দাঁড়ায়ে মুখোমুখি হাসিছে শিশুগুলি,
এসেছে ভাই বোন পুলকে ভরা মন,
ডাকিছে ‘ভাই ভাই’ আঁখিতে আঁখি তুলি’।