পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক ৩১৭ সেই প্রভাতের স্নিগ্ধ স্বদুর গন্ধ আঁধার বাহিয়া রহিয়া রহিয়া আসে । আকাশে যে গান ঘুমায়েছে নিঃস্পন্দ তারা-দীপগুলি কঁাপিছে তাহারি শ্বাসে । অন্ধকারের বিপুল গভীর আশা, অন্ধকারের ধ্যান-নিমগ্ন ভাষা বাণী খুজে ফিরে আমার চিত্তাকাশে ॥ জীবনের পথ দিনের প্রাস্তে এসে নিশীথের পানে গহনে হয়েছে হারা ; অঙ্গুলি তুলি তারাগুলি অনিমেষে মা ভৈঃ বলিয়া নীরবে দিতেছে সাড়া , মান দিবসের শেষের কুসুম তুলে’ এ কুল হইতে নব-জীবনের কূলে চলেছি আমার যাত্রা করিতে সারা ॥ হে মোর সন্ধ্যা, যাহা কিছু ছিল সাথে রাখি তোমার অঞ্চলতলে ঢাকি । আঁধারের সাথী, তোমার করুণ হাতে বাধিয়া দিলাম আমার হাতের রাখি । কত প্রভাতের অাশা ও রাতের গীতি, কত যে মুখের স্মৃতি ও দুখের প্রীতি, বিদায়-বেলায় আজিও রহিল বাকি ॥ যা-কিছু পেয়েছি, যাহা কিছু গেল চুকে’, চলিতে চলিতে পিছে যা রহিল প’ড়ে, যে মণি দুলিল, যে ব্যথা বিধিল বুকে,