পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రీ• • চয়নিক হয়তো মনের মাঝে ংগোপনে দিত নাড়া ; হয়তো ঘরের কাজে আচম্বিতে ভুল ঘটাত, হয়তে বাজত বুকে জন্মাস্তরের ব্যথা ; কারণ-ভোলা দুঃখে সুখে হয়তো পরান রইত চেয়ে যেন রে কার পায়ের শব্দ শুনে, বিহবল ফাঙ্কনে । তুমি আসতে আপিস থেকে, যেতে সন্ধ্য।-বেলায় পাড়ায় কোথা শতরঞ্চ খেলায়। இ. থাক সে-কথা । আজকে কেন মনে আসে প্রাণের যত ক্ষণিক ব্যাকুলত । প্রথম আমার জীবনে এই বাইশ বছর পরে বসস্তকাল এসেছে মোর ঘরে । জানলা দিয়ে চেয়ে আকাশ পানে আনন্দে আজ ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠছে প্রাণে— আমি নারী, আমি মহীয়সী, আমার সুরে সুর বেঁধেছে জ্যোৎস্না-বীণায় নিদ্রা-বিহীন শশী । আমি নইলে মিথ্যা হোত সন্ধ্যা-তারা ওঠা, মিথ্যা হোত কাননে ফুল-ফোট । বাইশ বছর ধ’রে মনে ছিল বন্দী অামি অনন্তকাল তোমাদের এই ঘরে । দুঃখ তবু ছিল না তার তরে, অসাড় মনে দিন কেটেছে, আরো কাটত আরো বাচলে পরে । যেথায় যত জাতি লক্ষ্মী ৰ’লে করে আমার খ্যাতি ; এই জীবনে সেই যেন মোর পরম সার্থকতা— স্বরের কোণে পাচের মুখের কথা ।