পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিকা ১৭ মনে পড়ে ঘরটি আলো মায়ের হাসি মুখ, মনে পড়ে মেঘের ডাকে গুরুগুরু বুক । বিছানাটির একটি পাশে ঘুমিয়ে আছে খোক, মায়ের পরে দৌরাত্মি সে না যায় লেখাজোক৷ ঘরেতে দুরন্ত ছেলে করে দাপাদাপি, বাইরেতে মেঘ ডেকে ওঠে স্থষ্টি ওঠে কঁাপি । মনে পড়ে মায়ের মুখে শুনেছিলেম গান— –বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বাম — মনে পড়ে স্বয়োরানী দুয়োরানীর কথা, মনে পড়ে অভিমানী কঙ্কাবতীর ব্যথা । মনে পড়ে ঘরের কোণে মিটিমিটি আলো, চারিদিকের দেয়ালেতে ছায়া কালে কালো । বাইরে কেবল জলের শব্দ ঝুপ ঝুপ কুপ— দস্তি ছেলে গল্প শুনে একেবারে চুপ— তারি সঙ্গে মনে পড়ে মেঘলা দিনের গান— “বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান ।” কবে বিষ্টি পড়েছিল, বান এল সে কোথা । শিবঠাকুরের বিয়ে হোলো কবেকার সে কথা । সে-দিনও কি এমনিতর মেঘের ঘটাখানা। থেকে থেকে বাজ বিজুলি দিচ্ছিল কি হান । তিন কন্তে বিয়ে করে কী হোলো তার শেষে । না জানি কোন নদীর ধারে, না জানি কোন দেশে, কোন ছেলেরে ঘুম পাড়াতে কে গাহিল গান— “বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদেয় এল বান।” (বৈশাখ, ১২৯২ ) --কড়ি ও কোমল