পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S)●8 চয়নিক যাত্রি-ঘরে বিছানাটা নিলেম পেতে, ব’লে দিলেম, “বিহু এবার চুপটি ক’রে ঘুমোও আরামেতে ।” প্ল্যাটফরমে চেয়ার টেনে পড়তে শুরু ক’রে দিলেম ইংরেজি এক নভেল কিনে এনে । গেল কত মালের গাড়ি, গেল প্যাসেঞ্চার, ঘণ্টা তিনেক হয়ে গেল পার । এমন সময় যাত্রি-ঘরের দ্বারের কাছে বাহির হয়ে বললে বিকু—“কথা একটা আছে।” ঘরে ঢুকে দেখি কে-এক হিন্দুস্থানি মেয়ে আমার মুখে চেয়ে সেলাম ক'রে বাহির হয়ে রইল ধরে বারান্দাটার থাম । বিতু বললে, “রুকমিনী ওর নাম । ঐ-যে হোথায় কুয়োর ধারে সার-বাধা ঘরগুলি ঐখানে ওর বাসা আছে, স্বামী রেলের কুলি, তেরো-শ' কোন সনে দেশে ওদের আকাল হোলো,—স্বামী স্ত্রী দুইজনে পালিয়ে এল জমিদারের অত্যাচারে । সাত বিঘে ওর জমি ছিল কোন-এক গায়ে কী-এক নদীর ধারে”— বাধা দিয়ে আমি বললেম হেসে, "রুকমিনীর এই জীবনচরিত শেষ না হোতেই গাড়ি পড়বে এসে, আমার মতে, একটু যদি সংক্ষেপেতে সারে অধিক ক্ষতি হবে না তায় কারে ।” বাকিয়ে ভুরু, পাকিয়ে চক্ষু, বিহু বললে খেপে— “ককৃখনো না, বলব না সংক্ষেপে । আপিস যাবার তাড়া তো নেই, ভাবনা কিসের তবে । আগাগোড়া সব শুনতেই হবে।”