পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক ○○ 。 অটলতার গভীর গর্ব বাপের মনে জাগে,— স্বখে দুঃখে দ্বেষে রাগে ধর্ম থেকে নড়েন তিনি নাই হেন দৌর্বল্য । র্তার জীবনের রথের চাকা চলল। লোহার বাধা রাস্তা দিয়ে প্রতিক্ষণেই, কোনোমতেই ইঞ্চিখানেক এদিক-ওদিক একটু হবার জো নেই। তিনি বলেন, তার সাধনা বড়োই সুকঠোর, আর কিছু নয়, শুধুই মনের জোর, অষ্টাবক্র জমদগ্নি প্রভৃতি সব ঋষির সঙ্গে তুল্য, মেয়েমানুষ বুঝবে না তার মূল্য। অস্তঃশীলা অশ্র-নদীর নীরব নীরে দুটি নারীর দিন বয়ে যায় ধীরে । অবশেষে বৈশাখে এক রাতে মঞ্জলিকার বিয়ে হোলো পঞ্চাননের সাথে । বিদায়-বেলায় মেয়েকে বাপ ব’লে দিলেন মাথায় হস্ত ধরি’ “হও তুমি সাবিত্রীর মতো এই কামনা করি।” কিমাশ্চর্যমতঃপরং, বাপের সাধন-জোরে আশীর্বাদের প্রথম অংশ দু-মাস যেতেই ফলল কেমন করে— পঞ্চাননকে ধরল এসে যমে ; কিন্তু মেয়ের কপালক্রমে ফলল না তার শেষের দিকটা, দিলে না যম ফিরে, মঞ্জলিকা বাপের ঘরে ফিরে এল সি দুর মুছে শিরে । দুঃখে মুখে দিন হয়ে যায় গত ম্রোতের জলে ঝরে-পড়া ভেসে-যাওয়া ফুলের মতো । অবশেষে হোলো মজুলিকার বয়স ভরা ষোলো ।