পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৬২ 鸭 চয়নিক এই ব’লে তার গুড়গুড়িতে দিলেন মৃদু টান । মা বললেন, “উঃ কী পাষাণ প্রাণ, স্নেহ মায়া কিচ্ছ কি নেই ঘটে ।” বাপ বললেন, “আমি পাষাণ বটে । ধর্মের পথ কঠিন বড়ো, ননীর পুতুল হোলে এতদিনে কেঁদেই যেতেম গ’লে ।” মা বললেন, “হায় রে কপাল । বোঝাবই-বা কারে । তোমার এ সংসারে ভরা ভোগের মধ্যখানে দুয়ার এ টে পলে পলে শুকিয়ে মরবে ছাতি ফেটে একলা কেবল একটুকু ঐ মেয়ে, ত্ৰিভুবনে অধৰ্ম আর নেই কিছু এর চেয়ে । তোমার পুথির শুকনো পাতায় নেই তো কোথাও প্রাণ, দরদ কোথায় বাজে, সেটা অন্তর্যামী জানেন ভগবান ।” বাপ একটু হাসল কেবল, ভাবলে “মেয়েমাহুষ, হৃদয়-তাপের ভাপে-ভরা ফাকুস । জীবন একটা কঠিন সাধন—নেই সে ওদের জ্ঞান ।” এই ব’লে ফের চলল পড়া ইংরেজি সেক্ট প্রেমের উপাখ্যান । দুগের তাপে জ’লে জ’লে অবশেষে নিব ল মায়ের তাপ ; ংসারেতে একা পড়লেন বাপ । বড়ো ছেলে বাস করে তার স্ত্রী-পুত্রদের সাথে বিদেশে পাটুনাতে । দুই মেয়ে তার কেউ থাকে না কাছে শ্বশুরবাড়ি আছে ।