পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৬৪ চয়নিক মঞ্জলী সব সহ করে, সব দাই সে শাস্ত, কাজ করে অক্লান্ত । যেমন ক’রে মাতা বারংবার শিশু ছেলের সহস্র অর্ণবদার হেসে সকল বহন করেন স্নেহের কৌতুকে, তেমনি করেই স্বপ্রসন্ন মুখে মঞ্জলী তার বাপের নালিশ দণ্ডে দণ্ডে শোনে, হাসে মনে মনে । বাবার কাছে মায়ের স্মৃতি কতই মূল্যবান সেই কথাটা মনে ক’রে গর্বসুপে পূর্ণ তাহার প্রাণ । “আমার মায়ের যত্ব যে-জন পেয়েছে একবার অণর কিছু কি পছন্দ হয় তার ” হোলির সময় বাপকে সে-বার বাতে ধরল ভারি । পাড়ায় পুলিন করছিল ডাক্তারি, ডাকতে হোলো তারে । হৃদয়যন্ত্র বিকল হোতে পারে ছিল এমন ভয় । পুলিনকে তাই দিনের মধ্যে বারেবারেই আসতে যেতে হয় মঞ্জুলি তা’র সনে সহজভাবে কইবে কথা যতই করে মনে ততই বাধে আরো । এমন বিপদ কারো হয় কি কোনো দিন । গলাটি তা’র র্কাপে কেন, কেন এতই ক্ষীণ, চোখের পাতা কেন কিসের ভারে জড়িয়ে আসে যেন ।