পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক w©ꬃ፭ ললাটের চন্দ্রালোকে নন্দনের স্বপ্ন-চোখে নিত্য-নূতনের লীলা দেখেছিছু চিত্ত মোর ভরে । দেখেছিন্থ স্বন্দরের অস্তলীন হাসির রঙ্গিমা, দেখেছিনু লজ্জিতের পুলকের কুষ্ঠিত ভঙ্গিমা, রূপ-তরঙ্গিমা ॥ সেদিনের পান-পাত্র, আজ তার ঘুচালে পূর্ণতা, মুছিলে, চুম্বন-রাগে চিহ্নিত বঙ্কিম রেখা-লত। রক্তিম-অঙ্কনে । অগীত সংগীত-ধার, অশ্রীর সঞ্চয়-ভার অযত্নে লুষ্ঠিত সে কি ভগ্নভাণ্ডে তোমার অঙ্গনে । তোমার তাণ্ডব নৃত্যে চূর্ণ চূর্ণ হোলো সে কি ধূলি নিঃস্ব কাল-বৈশাখীর নিশ্বাসে কি উঠিছে আকুলি’ লুপ্ত দিনগুলি । 嘯 নহে নহে, আছে তার , নিয়েছ তাদের সংহরিয়া নিগূঢ় ধ্যানের রাত্রে, নিঃশব্দের মাঝে সংবরিয়া রাখে। সংগোপনে । তোমার জটায় হার গঙ্গা আজ শাস্ত-ধারা, তোমার ললাটে চন্দ্র গুপ্ত আজি স্বপ্তির বন্ধনে । আবার কী লীলাচ্ছলে অকিঞ্চন সেজেছ বাহিরে । অন্ধকারে নিঃস্বনিছে যত দূরে দিগন্তে চাহি রে, “নাহি রে, নাহি রে ॥” কালের রাখাল তুমি, সন্ধ্যায় তোমার শিঙ্গ। বাজে, দিন-ধেমু ফিরে আসে স্তন্ধ তব গোষ্ঠগৃহ-মাঝে, উৎকণ্ঠিত বেগে । 鹽 নির্জন প্রাস্তর-তলে আলেয়ার আলো জলে, বিদ্যুৎ-বহ্নির সর্প হানে ফণা যুগাস্তের মেঘে ।