পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক Web-S বারে বারে তারি তৃণ সম্মোহনে ভরি’ দিব ব’লে আমি কবি সংগীতের ইন্দ্রজাল নিয়ে আসি চ'লে মৃত্তিকার কোলে ॥ জানি জানি বারংবার প্রেয়সীর পীড়িত প্রার্থনা শুনিয়া জাগিতে চাও আচম্বিতে, ওগো অন্যমন, নূতন উৎসাহে । তাই তুমি ধ্যানচ্ছলে বিলীন বিরহ-তলে উমাকে র্কাদাতে চাও বিচ্ছেদের দীপ্তদুঃখ-দাহে । ভগ্ন-তপস্যার পরে মিলনের বিচিত্র সে ছবি দেখি আমি যুগে যুগে, বীণা-তন্ত্রে বাজাই ভৈরবী, আমি সেই কবি ৷ আমারে চেনে না তব শ্মশানের বৈরাগ্য-বিলাসী, দারিদ্র্যের উগ্র দপে খলখল ওঠে অট্টহাসি’ দেখে মোর সাজ । হেন কালে মধুমাসে মিলনের লগ্ন আসে, উমার কপোলে লাগে স্মিতহাস্য-বিকশিত লাজ । সেদিন কবিরে ডাকো বিবাহের যাত্র-পথ-তলে, পুষ্প-মাল্য-মাঙ্গল্যের সাজি লয়ে সপ্তর্ষির দলে কবি সঙ্গে চলে ॥ ভৈরব, সেদিন তব প্রেতসঙ্গীদল রক্ত-আঁখি দেখে তব শুভ্রতন্ত রক্তাংশুকে রহিয়াছে ঢাকি, প্রাতঃস্থর্য-রুচি । অস্থি-মালা গেছে খুলে মাধবী-বল্পর মূলে, ভালে মাখা পুষ্পরেণু, চিতাভস্ম কোথা গেছে মুছি ।