পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


5थ्रनिको তোমার নাড়ীতে লেগে আছে তার পাগলামি । দেবতার মন্ত্র উঠেছে আকাশে বাতাসে অরণ্যে দিনেরাত্রে উদাত্ত অস্থদাত্ত মঞ্জস্বরে। জবু তোমার বক্ষের পাতাল থেকে অধিপোষা নাগ-দানব ক্ষণে ক্ষণে উঠছে ফণা তুলে, তার তাড়নায় তোমার আপন জীবকে করছ আঘাত, ছারখার করছ আপন স্থষ্টিকে । শুভে অণ্ডভে স্থাপিত তোমার পাদপীঠে, তোমার প্রচণ্ড সুন্দর মহিমার উদ্দেশে আজ রেখে যাব আমার ক্ষতচিহ্নলাঞ্ছিত জীবনের প্রণতি । বিরাট প্রাণের, বিরাট মৃত্যুর গুপ্তসঞ্চার তোমার যে-মাটির তলায় তাকে আজ স্পর্শ করি, উপলব্ধি করি সর্ব দেহে মনে । অগণিত যুগযুগান্তরের অসংখ্য মানুষের লুপ্তদেহ পুঞ্জিত তার ধুলায়। আমিও রেগে যাব কয় মুষ্টি ধূলি আমার সমস্ত স্থখদুঃখের শেষ পরিণাম, রেখে যাব এই নামগ্রাসী, আকারগ্রাসী, সকল পরিচয়গ্রাণী নিঃশব্দ মহাধূলিরাশির মধ্যে। অচল অবরোধে আবদ্ধ পৃথিবী, মেঘলোকে উধাও পৃথিলী, গিরিশৃঙ্গমালার মহং মৌনে ধ্যাননিমগ্ন পৃথিবী, নীলাম্বুরাশির অতন্দ্রতরঙ্গে কলমন্দ্রমুখরা পৃথিবী, অন্নপূর্ণ ভূমি সুন্দরী, অল্পরিক্ত তুমি ভীষণ । একদিকে অlপঙ্কধান্তভারনম্র তোমার শস্তক্ষেত্র, সেখানে প্রসন্ন প্রভাতস্থর্ব প্রতিদিন মুছে নেয় শিশিরবিন্দু কিরণ-উত্তরীয় বুলিয়ে দিয়ে । , অস্তগামী সুর্ব শুiমশস্তহিল্লোলে রেখে যায় অকথিত এই বাণী— “জামি আনন্দিত ।”