পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক 晦 p 8ግy অন্যদিকে তোমার জলহীন ফলহীন আতঙ্কপাণ্ডুর মরুক্ষেত্রে পরিকীর্ণ পণ্ডকঙ্কালের মধ্যে মরীচিকার প্রেতনুত্য । বৈশাখে দেখেছি বিদ্যুৎচষ্ণুবিদ্ধ দিগন্তকে ছিনিয়ে নিতে এল কালো শুেন পাখির মতো তোমার বাড়, সমস্ত আকাশটা ডেকে উঠল যেন কেশর-ফোলা সিংহ, তার ল্যাজের ঝাপটে ভালপালা আলুখালু ক’রে হতাশ বনস্পতি ধুলায় পড়ল উবুড় হয়ে । হাওয়ার মুখে ছুটল ভাঙা কুঁড়ের চাল শিকলছেড়া কয়েদী-ডাকাতের মতো । আবার ফাঙ্কনে দেখেছি তোমার আতপ্ত দক্ষিণে হাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছে বিরহ মিলনের স্বগতপ্ৰলাপ আম্রমুকুলের গন্ধে । চাদের পেয়ালা ছাপিয়ে দিয়ে উপচিয়ে পড়েছে স্বৰ্গীয় মদের ফেনা । বনের মর্মরধ্বনি বাতাসের স্পর্ধায় ধৈর্য হারিয়েছে অকস্মাৎ কলোলোচ্ছ্বাসে । স্নিগ্ধ ভূমি, হিংস্ৰ তুমি, পুরাতনী, তুমি নিত্যনবীন, অনাদি স্থষ্টির যজ্ঞ হতাগ্নি থেকে বেরিয়ে এসেছিলে {} সংখ্যাগণনার অতীত প্রত্যুষে, তোমার চক্রতীর্থের পথে পথে ছড়িয়ে এসেছ © শত শত ভাঙা ইতিহাসের অর্থলুপ্ত অবশেষ— বিনাবেদনায় বিছিয়ে এসেছ তোমার বর্জিত হষ্টি অগণ্য বিস্মৃতির স্তরে স্তরে । জীবপালিনী, আমাদের পুযেছ তোমার খগুকালের ছোটো ছোটে। পিঞ্জরে । তারই মধ্যে সব খেলার সীমা

  • সব কীর্তির অবসান ।