পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8bペ চয়নিক ঈশান কোণে উড়তি বালি আকাশখানা ছেয়ে হু হু করে আসছে ছুটে ধেয়ে । কাকগুলো তার আগে আগে উড়ছে প্রাণের ভরে, হার মেনে শেষ আছাড় খেয়ে পড়ে মাটির পরে । হাওয়ার বিষম ধাক্কা তাদের লাগছে ক্ষণে ক্ষণে, উঠছে পড়ছে, পাখার ঝাপট দিতেছে প্রাণপণে । বিজুলি ধায় দাত মেলে তার ডাকিনীটার মতো, দিকৃদিগন্ত চমকে উঠে হঠাৎ মর্যাহত । ঐ রে, মাঝি, খেপল গাঙের জল, লগি দিয়ে ঠেকা নৌকো, চরের কোলে চল। সেই যেখানে জলের আশা, চখাচীর বাস, হেথা হোথায় পলিমাটি দিয়েছে আশ্বাস কাচা সবুজ নতুন ঘাসে ঘেরা। তলের চরে বালুতে রোদ পোহায় কচ্ছপের । হোথায় জেলে বঁাশ টাঙিয়ে শুকোতে দেয় জাল, ডিঙির ছাতে বসে বসে শেলাই করে পাল । রাত কাটাব ঐখানেতেই করব রাধাবাড়া, • এখনি আজ নেই তো যাবার তাড়া । ভোর থাকতে কাক ডাকতেই নৌকো দেব ছাড়ি, ইটেখোলার মেলায় দেব সকাল সকাল পাড়ি। (জ্যৈষ্ঠ, ১৩৪৪ ) —ছড়ার ছবি