পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক অতৃপ্ত বাসন। প্রাণে লয়ে অবারিত প্রেমের ভবনে যাহা পাই তাহা তুলি, খেলাই আপন ভূলি’, কী-যে রাখি, কী-যে ফেলি, বুঝিতে পারিমে । ক্রমে আসে আনন্দ-অলস, কুসুমিত ছায়াতরুতলে ; জাগাই সরসৗজল, * ছিড়ি ব’সে ফুলদল, ধূলি সে-ও ভালো লাগে খেলাবার ছলে । অবশেষে সন্ধ্যা হয়ে আসে, শ্রাস্তি আসে হৃদয় ব্যাপিয়া, থেকে থেকে সন্ধ্যা বায় করে ওঠে হায় হায়, অরণ্য মমরি ওঠে কাপিয়া কাপিয়া । মনে হয় এ কি সব ফাকি, এই বুঝি আর কিছু নাই । অথবা ঘে-রভু তরে এসেছি। আশা ক’রে অনেক লইতে গিয়ে হারাইকু ভাই । মুখের কাননতলে বসি’ হৃদয়ের মাঝারে বেদনা, à নিরখি কোলের কাছে মৃৎপিণ্ড পড়িয়া আছে দেবতারে ভেঙে ভেঙে করেছি খেলনা । এরি মাঝে ক্লাস্তি কেন আসে, উঠিবারে করি প্রাণপণ, হাসিতে আসে না হাসি, বাজাতে বাক্তে না বাশি, শরমে তুলিতে নারি নয়নে নয়ন ।