পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8& চয়নিক। অন্ধকারে স্বর্যালোতে সপ্তরিয়া মৃত্যুম্রোতে নৃত্যময় চিত্ত হতে মত্ত হাসি টুটে । বিশ্বমাঝে মহান যাহা, সঙ্গী পরানের, ঝঞ্চামাঝে ধায় সে প্রাণ সিন্ধুমাঝে লুটে । নিমেষ তরে ইচ্ছা করে বিকট উল্লাসে সকল টুটে যাইতে ছুটে জীবন উচ্ছ্বাসে। শূন্য ব্যোম অপরিমাণ মদ্যসম করিতে পান, মুক্ত করি রুদ্ধ প্রাণ, উর্ধ্বে নীলাকাশে । থাকিতে নারি ক্ষুদ্রকোণে আম্রবন-ছায়ে, স্বপ্ত হয়ে লুপ্ত হয়ে গুপ্ত গৃহবাসে । বেহালাখানা বাকিয়ে ধরি’ বাজাও ও-কী সুর । তবলা-বায়া কোলেতে টেনে বাস্তে ভরপুর । কাগজ নেড়ে উচ্চস্বরে পোলিটিকাল তর্ক করে, জানালা দিয়ে পশিছে ঘরে বাতাস ঝুরুঝুর । পানের বাট, ফুলের মালা, তবলা-বায়া দুটো, দম্ভভরা কাগজগুলো করিয়া দাও দূর । কিসের এত অহংকার, দম্ভ নাহি সাজে । বরং থাকো মৌন হয়ে সসংকোচ লাজে ! অত্যাচারে, মত্তপারা কন্তু কি হও আত্মহারা । তপ্ত হয়ে রক্তধারা ফুটে কি দেহমাঝে । অহনিশি হেলার হাসি তীব্র অপমান মমতল বিদ্ধ করি' বজ্ৰসম বাজে ? দাস্তস্থখে হাস্যমুখ, ৰিনীত জোড় কর, প্রভুর পদে সোহাগ-মঙ্গে দোছুল কলেবর ।