পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


48 চয়নিক আজি অন্ধকার দিবা, বৃষ্টি ঝরঝর, জুরন্ত পবন অতি, আক্রমণে তার অরণ্য উদ্যত বাহু করে হাহাকার । বিদ্যুৎ দিতেছে উকি ছিড়ি মেঘভার খরতর বক্র হাসি শূন্যে বরষিয়া । অন্ধকার রুদ্ধগৃহে একেলা বসিয়া পড়িতেছি মেঘদূত ; গৃহত্যাগী মন মুক্তগতি মেঘপৃষ্ঠে লয়েছে আসন, উড়িয়াছে দেশদেশাস্তরে । কোথা আছে সামুমান আম্রকুট কোথা বহিয়াছে বিমল ৰিশীর্ণ রেবা বিন্ধ্য-পদমূলে উপল ব্যথিত-গতি ; বেত্রবর্তীকুলে পরিণত-ফল-খাম জম্বুবনচ্ছায়ে কোথায় দশার্ণ গ্রাম রয়েছে লুকায়ে প্রস্ফুটিত কেতকীর বেড়া দিয়ে ঘেরা ; পথ-তরু-শাখে কোথা গ্রাম-বিহঙ্গেরা: বর্ষায় বাধিছে নীড়, কলরবে ঘিরে বনস্পতি ; না জানি সে কোন নদীতীরে যুর্থীবনবিহারিণী বনাঙ্গন ফিরে, তপ্ত কপোলের তাপে ক্লান্ত কর্ণোৎপল মেঘের ছায়ার লাগি হতেছে বিকল ; ভ্ৰবিলাস শেখে নাই কা’র সেই নারী জনপদ-বধুজন, গগনে নেহারি’ ঘনঘটা, উধব নেত্রে চাহে মেঘপানে, ঘননীল ছায়া পড়ে সুনীল নয়ানে ; কোন মেঘশ্যামশৈলে মুগ্ধ সিদ্ধাঙ্গন স্নিগ্ধ নবঘন হেরি’ আছিল উন্মনা শিলাতলে, সহসা আসিতে মহা ঝড় চকিত চকিত হয়ে ভয়ে জড়সড়