পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক স্বপ্নকথা শুনি মুখ গভীর করিয়া কহিল গৌড়ীয় সাধু প্রহর ধরিয়া, “নিতান্ত সরল অর্থ, অতি পরিষ্কার ;– বহু পুরাতন ভাব নব আবিষ্কার ;– ত্র্যঙ্গকের ত্রিনয়ন ত্রিকাল ত্রিগুণ শক্তিভেদে ব্যক্তিভেদ দ্বিগুণ বিগুণ । বিবতন অবিতনি সস্বত ন আদি জীবশক্তি শিবশক্তি করে বিসম্বাদী । আকর্ষণ বিকর্ষণ পুরুষ প্রকৃতি আণব চৌম্বকবলে আকৃতি বিকৃতি । কুশগ্রে প্রবহমান জীবাত্ম বিদ্যুৎ ধারণ পরম শক্তি সেথায় উদ্ভূত । ত্রয়ী শক্তি ত্রিম্বরূপে প্রপঞ্চে প্রকট— সংক্ষেপে বলিতে গেলে হিং টিং ছট্‌ ৷” স্বপ্রমঙ্গলের কথা অমৃতসমান, গোঁড়ানন্দ কবি ভনে, শুনে পুণ্যবান । সাধু সাধু সাধু রবে কাপে চারিধার, সবে বলে—“পরিষ্কার, অতি পরিষ্কার । দুর্বোধ যা-কিছু ছিল হয়ে গেল জল, শূন্ত আকাশের মতো অত্যন্ত নিৰ্মল ।” ইপি ছাড়ি’ উঠিলেন হবুচন্দ্র রাজ, আপনার মাথা হতে খুলি লয়ে তাজ পরাইয়া দিল ক্ষীণ বাঙালির শিরে, ভারে তার মাথাটুকু পড়ে বুঝি ছিড়ে । বহুদিন পরে আজ চিন্তা গেল ছুটে, হাবুডুবু হবু রাজ্য নড়ি’ চড়ি উঠে ।