পাতা:চয়নিকা-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চয়নিক। লজ্জা মুকুলিত মুখে রক্তিম অম্বরে বধু হয়ে প্রবেশিলে চিরদিন তরে আমার অন্তরগৃহে —যে গুপ্ত আলয়ে অন্তর্যামী জেগে অাছে স্থখদুঃখ ল’য়ে, যেখানে আমার যত লজা আশাভয় সদা কম্পমান, পরশ নাহিক সয় এত স্বকুমার । ছিলে খেলার সঙ্গিনী, এখন হয়েছ মোর মমের গেহিনী, জীবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী । কোথা সেই অমূলক হাসিঅশ্রু, সে চাঞ্চল্য নেই, সে বাহুল্য কথা । স্নিগ্ধদৃষ্টি হুগম্ভীর স্বচ্ছনীলাম্বরসম ; হাসিখানি স্থির, অশ্রুশিশিরেতে ধৌত, পরিপূর্ণ দেহ মঞ্জরিত বল্লরীর মতো ; প্রীতিস্বেছ গভীর-সংগীতভানে উঠিছে ধ্বনিয়া স্বৰ্ণ-বীণতন্ত্রী হতে রনিয়া রনিয়! অনস্ত বেদন বহি’ । সে অবধি প্রিয়ে, রয়েছি লিস্মিত হয়ে তোমারে চাহিয়ে কোথা ও না পাই অস্ত । কোন বিশ্বপার আছে তব জন্মভূমি । সংগীত তোমার কত দূরে নিয়ে যাবে, কোন কল্পলোকে আ মারে করিবে বন্দী, গানের পুলকে বিমুগ্ধ কুরঙ্গসম ! এই-যে বেদনা, এর কোনো ভাষা আছে ? এই-ষে বাসনা, এর কোনো তৃপ্তি আছে ? এই-ষে উদার সমুদ্রের মাঝখানে হয়ে কর্ণধার ভাসায়েছ স্থলদর তরণী, দশ দিশি অ-ফুট কঙ্গোলধবনি চির দিবানিশি