করলাম। কত বড় বড় গাছ, বড় বড় ফার্ণ, কত বিচিত্র বর্ণের অর্কিড্ ও লায়ানা, স্থানে স্থানে সে বন নিবিড় ও দুষ্প্রবেশ্য। বড় বড় গাছের নীচেকার জঙ্গল এতই ঘন। বড়শির মতো কাঁটা গাছের গায়ে, মাথার উপরকার পাতায় পাতায় এমন জড়াজড়ি যে সূর্য্যের আলো কোনো জন্মে সে জঙ্গলে প্রবেশ করে কিনা সন্দেহ। আকাশ দেখা যায় না। অত্যন্ত বেবুনের উত্পাত জঙ্গলের সর্ব্বত্র, বড় গাছের ডালে দলে দলে শিশু, বালক, বৃদ্ধ, যুবা নানারকমের বেবুন বসে আছে—অনেক সময় দেখলাম মানুষের আগমন তারা গ্রাহ্য করে না। দাঁত খিঁচিয়ে ভয় দেখায়—দু-একটা বুড়ো সর্দ্দার বেবুন সত্যিই হিংস্র প্রকৃতির, হাতে বন্দুক না থাকলে তারা অনায়াসেই আমাদের আক্রমণ করতো। জিম্ কার্টার বল্লে—অন্ততঃ আমাদের খাদ্যের অভাব হবে না কখনো এ জঙ্গলে।
সাত-আটদিন সেই নিবিড় জঙ্গলে কাট্ল। জিম্ কার্টার ঠিকই বলেছিল, প্রতিদিন একটা করে বেবুন আমাদের খাদ্য যোগান দিতে দেহপাত করত। উঁচু পাহাড়টা থেকে জঙ্গলের নানাস্থানে ছোট বড় ঝরণা নেমে এসেচে, সুতরাং জলের অভাবও ঘট্ল না। একবার কিন্তু এতে বিপদও ঘটেছিল। একটা ঝরণার ধারে দুপুরবেলা এসে আগুন জ্বেলে বেবুনের দাপ্না ঝল্সাবার ব্যবস্থা করচি, জিম্ গিয়ে তৃষ্ণার ঝোঁকে ঝরণার জল পান করলে। তার একটু পরেই তার ক্রমাগত বমি হতে সুরু করল। পেটে ভয়ানক ব্যথা। আমি একটা