পাতা:চিঠিপত্র (ঊনবিংশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এবং অক্ষম অনুকরণ, ছন্দ ও মিল শিথিল।... প্রমাণ করিতে চেষ্টা করিলাম যে ‘নটরাজ রবীন্দ্রপ্রতিভার আরোহণ নয়, অবতরণ।” (‘আত্মস্মৃতি’, পৃ. ১৪২) এই মনের ভাবকে কেন্দ্র করে সজনীকান্ত একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ রচনা করেন। ২৪/১ ঘোষ লেনের বাসায়’ ও ‘বিপিনবাবুর চায়ের দোকানের বন্ধুমহলে বহুবার উদ্দীপনার সঙ্গে প্রবন্ধটি পঠিত হয়। কিছুদিন পরে রবীন্দ্রসাহিত্যের অন্যতম সমঝদার ডক্টর শচীন্দ্রনাথ সেন এসে সজনীকান্তকে বললেন– “তুই যখন ছাপবি না, ওটা আমার ‘অরসিক রায় বেনামে ‘আত্মশক্তি’তে ছাপিয়ে দেব।" (আত্মস্মৃতি’, পৃ. ১৪২)। লেখকসুলভ মোহে সেদিন সজনীকান্ত ‘না’ বলতে পারেন নি। যথাসময়ে ভাদ্র মাসের ৯, ১৬, ২৩ ও ৩০ এবং আশ্বিনের ২৭ তারিখে পাঁচটি কিস্তিতে তারানাথ রায়-সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘আত্মশক্তি’তে প্রবন্ধটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। কিন্তু এই প্রবন্ধ প্রকাশের ব্যাপারে সজনীকান্ত এতই নিরুৎসাহ ছিলেন যে তিনি প্রবন্ধের “কপি” পর্যন্ত সংগ্রহ করেন নি। এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্য লক্ষণীয় : “চিন্তালেশহীন অবোধ বালক টিলটি নিক্ষেপ করিয়াই খুশি ছিল, আম পড়িল কি পাখি মরিল— সে সম্বন্ধে ভাবিয়াও দেখে নাই। সে চকিত হইয়া উঠিল তখনই, যখন টিলটি ফিরিয়া তাহারই গায়ে আসিয়া লাগিল।” (“আত্মস্মৃতি’, পৃ. ২১৬) যথাকালে রবীন্দ্রনাথ প্রবন্ধ ও প্রবন্ধকারের সম্বন্ধে জানতে পারেন। গুরুশিষ্যের সংঘাতের ইহাই সূত্রপাত। পরবর্তী জীবনে এই প্রসঙ্গে সজনীকান্তের স্বীকারোক্তি লক্ষণীয় : “নিজের অবিমূষ্যকারিতা এবং বিপক্ষীয় দলের সমর্থকদের ষড়যন্ত্রে ও চক্রান্তে আমাদের দলের একমাত্র ভরসা এবং আদর্শ স্বয়ং জনাৰ্দনই সাময়িকভাবে “শনিবারের চিঠি’কে নয়, একমাত্র আমাকেই ত্যাগ করিয়াছিলেন।” (“আত্মস্মৃতি’, পৃ. ২১৫) У У О