পাতা:চিঠিপত্র (ঊনবিংশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলি-কলমের পেশার পঞ্চবিংশতি বর্ষপূর্ণ হওয়া উপলক্ষে”। প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেদিনকার বঙ্গ-সাহিত্য-সমাজে তুমুল আন্দোলনের ও তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। ১৩৩৫ জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায়, “শনিবারের চিঠি’র তৎকালীন মুদ্রাকর ও প্রকাশক সজনীকান্ত দাস লিখলেন “বাংলা কাব্য-সাহিত্যে শ্ৰীযুক্ত প্রমথ চৌধুরী মহাশয়ের দান’। এই প্রবন্ধে সিনেট পঞ্চাশৎ’-এর যাবতীয় দুর্বলতা বিশ্লেষণ ও “প্যারডি’ করে দেখালেন সজনীকান্ত। এই প্রসঙ্গে সজনীকান্তের বিশ্বাস, যদিও “লেখাটিতে যৌবনসুলভ ঔদ্ধত্য ও ইয়ার্কির অসম্মান ছিল”, তথাপি “কাব্যহিসাবে “সনেট পঞ্চাশৎ’-এর আসার্থকতা কথঞ্চিৎ প্রকট করিতে পারিয়ছিলাম”। প্রমথ চৌধুরী আদর্শে প্যারডি-পারংগম প্রবন্ধকারের দুইটি সনেট ‘বালিগঞ্জ’ ও ‘বেগুন ওই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল ও যার আঘাত আরো মর্মান্তিক হয়েছিল। ওই সংখ্যাতেই নীরদ চৌধুরী আরো মারাত্মক অস্ত্র নিক্ষেপ করলেন– “শ্রীযুক্ত প্রমথ চৌধুরী— জের”। কিন্তু জ্যৈষ্ঠেই এর সমাপ্তি হয় নি—এর জের চলেছিল আষাঢ় সংখ্যার “শনিবারের চিঠি’তেও। ওই সংখ্যাতে প্রমথবাবুর সংস্কৃত জ্ঞানের ওপর কটাক্ষ করে সজনীকান্ত একটি প্রবন্ধ লিখলেন, ডক্টর বটকৃষ্ণ ঘোষের সাহায্যে— “পণ্ডিত প্রমথ চৌধুরী”– পূর্ব খণ্ড ও উত্তর খণ্ড । এই সম্বন্ধে সজনীকান্ত তার আত্মস্মৃতিতে বলেছেন—“হালকা ইয়ার্কি এবারে গভীর অসন্ত্রম হইয়া উঠিল। ফলে আমরা আমাদের সহায়ক ও পৃষ্ঠপোষক বহু বিদগ্ধজনের বিরাগভাজন হইলাম। রবীন্দ্রনাথ “নটরাজ” ব্যাপারে ক্ষুন্ন ছিলেন। “প্রথম চৌধুরী” ব্যাপারে তাহার ক্ষুব্ধতা ক্রোধে পরিণত হইল। (আত্মস্মৃতি’, পৃ. ১৫৮) “শনিবারের চিঠি'র প্রমথ-বিদূষণ রবীন্দ্রনাথকে অতিমাত্রায় বিচলিত করে। যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেতে শনিগোষ্ঠীর বিশেষ বিলম্ব হয় নি। SS S) ১ ৯ || ৮