পাতা:চিঠিপত্র (ঊনবিংশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরন্তন সাহিত্যের আদর্শ সম্বন্ধে তার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা” (‘আত্মস্মৃতি’, পৃ. ১২৯) করতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ১৩৩৪ শ্রাবণ ‘বিচিত্রা’র ১ম, বর্ষ ১ম খণ্ড, দ্বিতীয় সংখ্যায় ‘সাহিত্য ধৰ্ম্ম প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। কিন্তু আধুনিক সাহিত্য সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের সমস্ত বক্তব্য এই প্রবন্ধে প্রকাশিত হয় নি। এই প্রবন্ধ রচনার অব্যবহিত পরেই তিনি পূর্ব এশিয়া অর্থাৎ জাভা, সুমাত্রা, বালি, মালাক্কা প্রভৃতি স্থানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন (যাত্রাকাল : ১২ জুলাই ১৯২৭—২৭ অক্টোবর ১৯২৭)। ২৩ অগস্ট ১৯২৭ জাভা থেকে বালি যাবার পথে প্লানসিউজ জাহাজে রবীন্দ্রনাথ ‘সাহিত্যধৰ্ম্ম-এর পরিপূরক ‘সাহিত্যে নবত্ব প্রবন্ধ রচনা করেন। প্রবন্ধটি ১৩৩৪ অগ্রহায়ণের “প্রবাসী’তে “যাত্রীর ডায়েরি’ শিরোনামায় প্রকাশিত হলে তুমুল আলোড়নের সৃষ্টি হয়। (দ্র, রবীন্দ্রজীবনী : ৩, ‘সাহিত্যে দ্বন্দ্ব, পৃ. ৩০৪-০৭)। পত্র-৮ ১ আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় (১৮৯০-১৯৭৭)। প্রখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ ও জাতীয় অধ্যাপক। তিনি ছিলেন মধ্যবর্তী সেতু। একদিকে রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল তার অপরিসীম ভক্তি, অপরদিকে শনিগোষ্ঠীকে তিনি অতিমাত্রায় স্নেহ করতেন। ১৩৩৬ শ্রাবণের “শনিবারের চিঠি’ রবীন্দ্র-বিদূষণে যখন অতিমাত্রায় মুখরিত হয়, সেই আঘাত রবীন্দ্রনাথকে ভীষণভাবে স্পর্শ করে। সুনীতিকুমার এই পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়েছিলেন “শনিবারের চিঠি’র হয়ে দরবার করতে। যার ফলস্বরূপ রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিও বিরূপ হলেন। এই চিঠিটি রবীন্দ্রনাথের লেখা সুনীতিকুমারকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু এই সময় কবি এত বেশি রকম বিচলিত ছিলেন যে চিঠিটির একটি নকল সজনীকান্তকে পাঠিয়েছিলেন। সজনীকান্ত তার ‘আত্মস্মৃতিতে পরবর্তীকালে লিখেছেন যে “রবীন্দ্রনাথ আমাদিগকে ক্ষমা না করিলে ইহা প্রকাশ করা সম্ভব ছিল না”। (‘আত্মস্মৃতি’, পৃ. ২৯৪)। > 8 と。