পাতা:চিঠিপত্র (ঊনবিংশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


‘সমর সেন’-এর কবিতা নির্বাচিত না হওয়ায় বুদ্ধদেব বসু অসম্ভব উত্তেজিত হয়ে লিখলেন—“গদ্য কবিতা রবীন্দ্রনাথ নেন নি ; না নেবার অধিকার তার সম্পূর্ণই আছে। সেইজন্যে সমর সেন বাদ পড়েছেন। ১৯২৭-২৮-এর পরে অর্থাৎ কল্লোলের সময়ের পরে, বাংলা কাব্যসাহিত্যে নতুন শক্তির আবির্ভাব সমর সেনেই। খুব কম বাঙালী কবিতেই এত অল্প বয়সে এতখানি বুদ্ধির পরিণতি ও আঙ্গিকের উপর দখল পাওয়া গেছে। বাংলা গদ্যছন্দকে সমর সেন নতুন ক’রে সৃষ্টি করেছেন ও করছেন। তার প্রভাব এর মধ্যেই যথেষ্ট ব্যাপক, আজকের দিনে দেখা যাচ্ছে প্রায় কোনো যুবকই তাকে অনুকরণ না করে লিখতে পারেন না। সমর সেনের প্রভাব পাওয়া যায় এমন কবিতা ‘বাংলা কাব্য-পরিচয়েও আছে। সমর সেনকে নিতে হবে ব’লেই গদ্যছন্দকে স্বীকার করা অযৌক্তিক হত না, তবে রবীন্দ্রনাথ যখন গদ্য ছন্দকে নেনই নি, তখন ভুলক্রমেও কোনো গদ্যকবিতা যাতে ঢুকে না পড়ে সে বিষয়ে তার লক্ষ্য নিশ্চয়ই প্রখর ছিল। কিন্তু নিশিকান্তর “পণ্ডিচেরির ঈশান কোণের প্রান্তর’ কেমন করে ঢুকলো? (দ্র, ‘বাংলা কাব্য-পরিচয়’, ‘কবিতা’, ১৩৪৫ আশ্বিন, সংখ্যা-৭, পৃ. ৭২) ৪ “কাব্য-পরিচয়’এর নির্বাচন সম্বন্ধে যে দিলীপকুমার রায় দুঃখ পেয়েছিলেন তার ইঙ্গিত মেলে রবীন্দ্রনাথকে লেখা তার একটি সুদীর্ঘ পত্র থেকে। ‘কাব্য-পরিচয়’-এর সমালোচনা করে রবীন্দ্রনাথকে লেখা দিলীপ রায়ের পত্র থেকে কিয়দংশ এখানে উদ্ধৃত হল— “কাব্য সংকলনের মতো কাজ বড় পরিশ্রমের কাজ— বহু নগণ্য লেখকের লেখা ঘেটে তবে নির্বাচন করতে হয়। আপনার লক্ষ কাজ —আপনি শ্রাত্ত— কাজেই কেউ আপনার কাছে এতটা খাটুনির আশা করে না— কিন্তু যাঁরা নির্বাচন করেছেন তাদের bonafides সম্বন্ধে সংশয় পোষণ করবার হেতু যথেষ্ট। তারা আপনার সুনামকেও নিজের কাজে লাগালেন আর আপনি এতে প্রকাশ্য সম্মতি দিলেন এতেও আপনার বহু অকৃত্ৰিম ভক্ত ব্যথা পেয়েছেন। তারা হয়ত সবাই নগণ্য কিন্তু তবু তাদের বেদনারও কোনো মূল্য আপনার কাছে নেই– ভাবতে কি জানি > Q R