পাতা:চিঠিপত্র (ঊনবিংশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নিয়েও চিঠি লিখেতেন, তার একটি প্রমাণ স্বরূপ দলিল— এই তারিখহীন চিঠিটি— “শ্রীযুক্ত সজনী দাসের সঙ্গে দেখা করার জন্যে শ্ৰীযুক্ত সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয় আমাদের পাড়ায় এসেছিলেন। তাহলে আমাদের পাড়াও শ্ৰীমন্ত হয়ে উঠল দেখছি।” হেমন্তবালা দেবী রবীন্দ্রনাথকে সজনীকান্ত সম্পর্কে অনেক চিঠি লিখেছিলেন। এবং চিঠিতে চিঠিতে আক্রান্ত হয়ে রবীন্দ্রনাথ একটু অসন্তুষ্টও হয়েছিলেন সে আলোচনা আমরা ‘আত্মস্মৃতি’ ও ‘রবীন্দ্রনাথ ও সজনীকান্ত গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে পেয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হোলো হেমন্তবালা দেবী কি সব সময়ই সজনীকান্তের গুণগান করতেন রবীন্দ্রনাথের কাছে? একটি তারিখহীন চিঠির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করা হল—“সজনীবাবু যদি আপনার শত্রু না হতেন, তা হলে আমি অত্যন্ত সুখী হতাম। কিন্তু নিরুপায়। এবারের আশ্বিনের “শনিবারের চিঠিতে আপনার একটু খানি প্রশংসা (অনেকখানি নিন্দাও আছে অবশ্য) বেরিয়েছে, আপনি মহাত্মাজির প্রায়োপবেশন উপলক্ষ্যে যা বলেছেন সেই জন্যে। কিন্তু গদ্য কবিতাকে “গবিতা” ও “ছবি”কে “ছবিতা” নাম দিয়ে সে সব ব্যঙ্গ, শান্তিনিকেতনকে “চল চপলায়তন” বলে যে সব কথা, ঐ গুলো আমার হজমও হয় না। আবার আপনিও সবলে ঐ গুলো অস্বীকার করে নিজের পথে চলতেই থাকবেন, প্রতীকার করবেন না। দুর্ভাগ্য দেখছি আর কারো নয়, একলা আমার। কেউ এসব কথা আপনার কানেও তোলে না। আপনার স্বদেশী যুগের রূপটি আবার ক্ষণিকের তরে ফিরে এসেছে অনুমান করে এবারে আপনাকে কৃতজ্ঞতা ও ভক্তি জানিয়েছেন সজনীবাবু “শনিবারের চিঠি”তে। সেই স্বদেশী যুগের সময়কার রবীন্দ্রনাথ তো আমাদেরও চিরবরেণ্য। আজকের সমস্ত বাঙ্গালীরই পরম সম্পদ ও অন্তরের দেবতা। সেই ૨ S) ૨