পাতা:চিঠিপত্র (ত্রয়োদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আর-একজন অনাবাসিক ছাত্রী ছিলেন ঢাকার রাধাকান্ত গুহঠাকুরতার বালবিধৰা কস্তা লাবণ্যলেখা দেবী। তিনি তখন রবীন্দ্রনাথের পরিবারেরই একজন, তার কন্যাস্থানীয়া । অল্প কিছুকাল এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন অরুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কস্তা সাগরিক । তিনি নিচু বাংলায় তার জ্যাঠাইমা হেমলতা দেবীর কাছে থাকতেন । মোহিতচন্দ্র সেনের বিধবা পত্নী স্বশীল দেবী যখন বিদ্যালয়ের বালিকাদের তত্ত্বাবধান-ভার নিলেন তখন তার দুটি কন্যাও বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন । তিনি চলে গেলে সেই স্থানে আসেন ‘রবীন্দ্রজীবনী'-কার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের জননী গিরিবালা দেবী। তার দুই কন্যা, কাত্যায়নী ও কল্যাণী এই বালিকাবিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন । বালিকা-বিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষার যে ব্যবস্থা ছিল তাকে সহশিক্ষা বলা যায় না। ছাত্ৰীনিবাসের বাইরে ইচ্ছামত র্তারা চলাফেরা করতে পারতেন না, ক্লাসও হ’ত ছাত্রীনিবাস সংলগ্ন কোনো ঘরে । সেখানে অবগু সেই শ্রেণীর ছাত্ররাও এসে পড়ে যেত । ছাত্রীদের আহার্য ব্ৰহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালরের সাধারণ পাকশালা থেকে আসত। বালিকা-বিদ্যালয়ের নিয়মাবলী বিষয়ে অজিতকুমার চক্রবর্তীকে ৯ অক্টোবর ১৯০৯ খৃস্টাবো লেখা রবীন্দ্রনাথের একটি চিঠির প্রাসঙ্গিক অংশ উদ্যুত হল— “স্ত্রীবিদ্যালয় সম্বন্ধে কতকগুলি নিয়ম স্থির করা কর্তব্য। নতুবা ওখানকার বালকবিদ্যালয়ের সঙ্গে হয়ত তার স্বর না মেলবার আশঙ্ক। আছে । বিদ্যালয়ের অধ্যাপকদেরও অনেকের মন বোধহয় এ সম্বন্ধে পীড়িত হচ্ছে— সেটা ঠিক কল্যাণকর নয়। অৰণ্ড যেখানে কোনো অন্তায় নেই সেখানে কারো সংস্কারের দিকে তাকাবার দরকার নেই— কিন্তু সংস্কারকে একেবারেই অশ্রাব্য করারও প্রয়োজন দেখিনে । তাৰ & ዓፄ