পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্থায়ী মূল্য নেই কারণ সম্পূর্ণ জানার মধ্যে তার মূল ছিল না। এখনি তা অনুজ্জল এবং লুপ্তপ্রায় হয়ে এসেছে কিছু দিন পরে তা যুদূর স্মৃতিরূপে হয়তো অস্পষ্ট থেকে যাবে। কিন্তু যত্ন ও ভালোবাসা সত্যকার জিনিস অস্তরের ভিতর থেকে জীবনকে তা পূর্ণতা দান করে, কোনো কালে তার ক্ষয় নেই। সেদিন যুরোপও আমার বাহিরের সংস্রব থেকে জানি না কী কারণে আমাকে প্রচুর ভালোবাসা দিয়েছিল সেই অহৈতুক মানব প্রেম আমার জীবনের সঙ্গে মিলিত হয়ে তাকে অভূতপূর্ব সার্থকত। দান করেছে। বাহিরের কোনো বিস্মৃতি আর তাকে অপহরণ করতে পারবে না। আমার সৌভাগ্য এবং আমার গৌরব এই খ্ৰীতিতেই, খ্যাতিতে কদাচিৎ নয়। সেই জন্য আমার সেই ভ্রমণ ব্যাপারের বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে এই দৈনন্দিন সেবার ধারাসূত্র সকলের চেয়ে সত্য হয়ে আমার মনের মধ্যে আজে। রয়ে গেছে আর বাকি বাহিরের সমস্ত দান প্রতিদান আমার মন থেকে ভ্ৰষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সেজন্য আক্ষেপ না করাই আমি শ্রেয় মনে করি । ঈশোপনিষৎ মানুষকে তার জীবনান্তকালের এই মন্ত্র দিয়েছেন “ওম কৃতং স্মর”, নিজে যা করেছ তাই স্মরণ কর, আর সমস্ত কথা নিয়ে যেন চিত্তবিক্ষেপ ন| ঘটে, লোকের মুখের কথা লোকের মুখেই রইল। কিন্তু অন্তরের সম্পদ জীবনের কর্মের সঙ্গে জড়িত হয়ে তার শেষ পুরস্কার অর্পণ করবে সেই পুরস্কারকেই আমি বলি শান্তি । আমাদের দেশে সামান্ত কারণেই লোকে আধ্যাত্মিক শক্তির অতিমানবিক প্রভাব কল্পনা করে থাকেন, আপনি ૨ o૧૭