পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনেক দিন থেকে তোমাকে স্নেহ করে আসচি। সেই সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হলে তোমারি পীড়া তা নয় আমারো। মাঝে মাঝে তাতে নাড়া লাগতে পারে, বন্ধন আশা করি ছিড়বে না। কিন্তু বারে বারে অকারণে বা স্বল্প কারণে অদৃষ্টের মার খেয়ে খেয়ে ক্রমে গ্রহনক্ষত্রের ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে অন্ধ বিশ্বাস মনে পাকা হয়ে উঠ চে । বহুদিন থেকেই প্রায় প্রত্যেক বন্ধসম্বন্ধ আমাব ভাগে অকস্মাৎ প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। একে সেটা দুঃসহ তার উপৰে যদি বলতে হয় যে নিশ্চয়ই আমারই স্বভাবে দোষ আছে তবে তাতে একগুণ দুঃসহতা তুই গুণ হয়ে ওঠে— তাই নক্ষত্রের পরে দোষাবোপ করি— তাতে তার উজ্জ্বলতায কলঙ্ক লাগে না । এবার প্রবাসে একে ত তোমাব চিঠি পাইনি তার পবে তোমার কন্যার জন্মসংবাদ যখন বাইবের লোকের কাছ থেকেই পাওয়া গেল তখন মনে সন্দেহ হতে লাগল আমার গ্রহ বুঝি আবার নড়ে চড়ে উঠেছেন । হঠাৎ দূরের থেকে ফিরে এসে যখনি এই সমস্ত ব্যক্তিগত পঙ্কিলতার মধ্যে একেবারে ঠাট পর্য্যন্ত গেড়ে যাই তখনি নিজের খৰ্ব্বতা নিয়ে দুঃখ বোধ করি। এত বড় পরাভব আর নেই। এ হচ্চে সামান্য ছায়াকে কল্পনায় অপছায়া করে তুলে আন্দোলিত হৃৎপিণ্ডের মধ্যে আত্ম অসম্মান ঘটানো । এই মায়ার আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা করব । তা করতে গেলে নিজেকে যথাসাধ্য বিবিভক্ত রাখা দরকার হবে ।