পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পারেন। বর্তমানে যে সকল ছাত্র আছে তাহাদের অভিভাবকের ইচ্ছাপূর্বক ২০ টাকা বেতন যদি না দেন তবে তাহাদিগকে রাখিতেই হইবে কিন্তু ভবিষ্যতে ২০ টাকার কমে ছাত্র লওয়া হইবে না এইরূপ নিয়ম করা অবশ্যম্ভাবী হইয়াছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে অধ্যাপকদের বেতন কম করিবার প্রস্তাব করা অামি ঠিক মনে করি না । কিন্তু র্তাহারা ইচ্ছাপূর্বক নিজে হইতে কিছু কি ত্যাগ করিবার কথা বলিতে পারেন না ? উহাদের মধ্যে কেহ একজন দৃষ্টান্ত দেখাইলেই পথ সরল হইতে পারে । আমি জানি না আমাদের বিদ্যালয়ের বেতনের হার অন্যত্র অপেক্ষ বেশি কিনা কিন্তু আমি ইহাদের কাহার ও কাছে কিছু দাবি করিতে পারি না। ত্যাগ করিবার দাবি একমাত্র অামারই উপর অাছে— বিদ্যালয়ের আইডিয়া আমাকেই ডাক দিয়াছিল অতএব যথার্থভাবে আমারই গরজ । যতক্ষণ আমার কিছুমাত্র সামর্থ্য আছে ততক্ষণ আমি অন্যের কাছে হাত পাতিতে পারি ন। অতএব বিদ্যালয়ে অনটন যাহা কিছু ঘটতেছে তাহার মূলে আমারই অপরাধ আছে— সেজন্য আমি অন্তকে দণ্ডনীয় করিব কি করিয়া ? অধিক বেতনের অধ্যাপক দিগকে বিদায় করা একটা পস্থা বটে কিন্তু তাহা হইলে প্রাণ নষ্ট করিয়া ব্যয় বাচানোর চেষ্টা করা হয় । কারণ তাহারাই বিদ্যালয়ের মৰ্ম্মস্থান অধিকার করিয়া আছেন । যেমন করিয়া হৌক একদিন ইহার সমস্ত দায় আমাকেই স্বীকার করিয়া লইতে হইবে একথা মনে মনে ভাবিয়াছি । ૨ જે