পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাঠশালায় মৃণালিনীর বিদ্যাশিক্ষার স্বত্রপাত হয়। প্রথম বর্গ পর্যন্ত অবাধে পড়াশুনা চলিয়াছিল। কিন্তু সমাজে নিন্দার ভয়ে সুদূর পরীক্ষণকেন্দ্রে উপস্থিত হইয়া পরীক্ষা দেওয়া তাহার পক্ষে সম্ভব হইয়া উঠে নাই ; কাজেই বাংলা লেখাপড়ার সাধ ইচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হইয়াই তাহাকে এইখানেই মিটাইতে হইয়াছিল ।... ১২৯০ সালে চব্বিশে অগ্রহায়ণ রবিবারে রবীন্দ্রনাথের সহিত মৃণালিনী দেবীর শুভ পরিণয় সম্পন্ন হয়। তখন রবীন্দ্রনাথ চতুবিংশতিবর্ষীয় যুবক, মৃণালিনী দেবীর বয়স একাদশ বর্ষ । বিবাহে ঘটকালি করিয়াছিলেন রবীন্দ্রনাথের মাতুল ব্রজেন্দ্রনাথ রায়ের পিসিমা আদ্যাম্বন্দরী। প্রচলিত প্রথানুসারে কন্যার পিতা তাহার বাড়িতে বর লইয়া বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব করিলে মহৰ্ষি তাহাকে জানাইয়াছিলেন, কলিকাতায় আদি ব্রাহ্মসমাজের নিয়মানুসারে ব্রাহ্মমতে বিবাহ হইবে । এই প্রস্তাব স্বীকৃত হইলে মহর্ষি দক্ষিণডিহির বাড়িতে নানাবিধ খেলনা বসনভূষণাদি কর্মচারী সদানন্দ মজুমদারের সঙ্গে পাঠাইয়াছিলেন। সদানন্দ মহৰ্ষির কথানুসারে গ্রামে নানা মিষ্টান্ন প্রস্তুত করাইয়া কন্যার ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে পাঠাইবার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন । ইহা বোধ হয় ‘কন্যার আশীৰ্বাদ’ বা ‘পাকা দেখা'র সামাজিক বিধি । বিবাহে মহৰ্ষির যে বংশ-গোত্রের বিবেচনা ছিল, এ বিবাহে তাহার ব্যভিচার হয় নাই। সমৃদ্ধি ও বিদ্যাবস্তায় রায়চৌধুরীবংশ ঠাকুরপরিবারের সমতুল না হইলেও এই বৈবাহিক সম্বন্ধে মহর্ষিদেবের মতদ্বৈধ ছিল না । জোড়ার্সাকোর বাড়ির ব্রহ্মোৎসব-দালানে কুলপ্রথানুসারে পরিণয়োৎসব শুভসম্পন্ন হয় । নিমন্ত্রিত আত্মীয় কুটুম্বগণের সহিত মহর্ষি সমাজেতে কনিষ্ঠ পুত্রের শেষ সামাজিক কার্য নিষ্পন্ন করেন। পিতৃগৃহে কন্যার নাম ছিল ‘ভবতারিণী', রবীন্দ্রনাথের নামের সঙ্গে সংগতি রক্ষা না হওয়ায় বিবাহের পরে পরিবর্তিত নাম হইল মৃণালিনী’ । রবি-মৃণালিনীর প্রণয়-সম্বন্ধ কবিকল্পিত, চিরপ্রসিদ্ধ ; তাই মনে হয়, এই >文8