পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুনিয়া তাহার বাংলায় অনুবাদ লিপিবদ্ধ করিতেন । এইরূপে রামায়ণের গল্পাংশের অনুবাদ সমাপ্ত হইয়াছিল। বলেন্দ্রনাথ সংস্কৃতে বিশেষ অনুরাগী ছিলেন । তিনি সংস্কৃত কাব্য-নাটকাদির শ্লোক গদ্যাংশ কখনো কখনো ব্যাখ্যা ও সরল বাংলায় অনুবাদ করিয়া কাকিমাকে বুঝাইয়া দিতেন । এই প্রকারে অনুবাদের সাহায্যে ও বলেন্দ্রনাথের ব্যাখ্যায়, শ্লোকের আবৃত্তি শ্রবণে মৃণালিনী দেবীর সংস্কৃতঅর্থবোধে বেশ-কিছু পারদর্শিতা জন্মিয়াছিল। রথীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রভবনে মায়ের স্বহস্তে পেন্সিলে লিখিত একখানি খাতা দিয়াছেন । র্তাহার বিশ্বাস ছিল, খাতাখানি মায়ের লিখিত রামায়ণের সেই অনুবাদের পাণ্ডুলিপি ৷ খাতা খুলিয়া দেখিলাম ইহা রামায়ণের অনুবাদপাণ্ডুলিপি নহে, মহাভারত মনুসংহিতা ঈশোপনিষৎ কঠোপনিষৎ প্রতৃতির অনুবাদ ইহাতে লিপিবদ্ধ হইয়াছে . কবি এখন সম্পূর্ণ গৃহস্থ ন হইলেও গৃহী হইয়াছেন বলা যায়। বিবাহের । পর তিনি পৈতৃক প্রাসাদে নির্ধারিত প্রকোষ্ঠে কিছুকাল অবস্থান করিয়াছিলেন ; তখন ঠাকুরপরিবার স্থবিপুল— মহৰ্ষির পুত্র পুত্রবধু পৌত্র পৌত্রী কন্যা দৌহিত্র দৌহিত্রী আত্মীয় কুটুম্ব প্রভৃতির স্থান সুবিশাল ত্রিতল অট্টালিকায়ও যথেষ্ট হইত না । * কাব্যময় জীবন উপভোগ করায় কবির পক্ষে কোনো বাধা ছিল না । একবার তিনি ইচ্ছা করিলেন, গাজিপুরে কোনো নিভৃত নিবাসে বাস করিয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সম্ভোগে কবিজীবন সফল করবেন। এই অভিপ্রায়ে ১২৯৪ সালের শেষভাগে তিনি গাজিপুরে যাওয়া স্থির করিলেন। এই সিদ্ধান্তের অজুহাতে তিনি লিখিয়াছেন– “বাল্যকাল থেকে পশ্চিম ভারত আমার কাছে রোম্যাটিক কল্পনার বিষয় ছিল ৷ শুনেছিলুম, গাজিপুরে আছে গোলাপের ক্ষেত তারি মোহ আমাকে প্রবলভাবে টেনেছিল ।” >こや