পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিতে জোড়াসাকোর বাড়িতে আসিতেন, বউমাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপসালাপ আমোদ-সামোদ করিয়া চলিয়া যাইতেন, বউমাদের সনির্বন্ধ চেষ্টায়ও কখনও জলগ্ৰহণ পর্যন্ত করিতেন না। পরম আত্মীয়গণের সহিত ঈদৃশ বিসদৃশ ব্যবহার আপাতত বিশেষ বিস্ময়জনক । কিন্তু কাৰ্যমাত্রের কারণ থাকে, ইহারও গৃঢ় কারণ ছিল। মহর্ষিদেব ভ্রাতৃবধুর মাসহার এক হাজার টাকার ব্যবস্থা করিয়াছিলেন ; কোনো উপায়ে বধুমাতার প্রাণনাশ করিতে পারিলে মাসহার দিতে হইবে না, এই অমূলক সন্দেহ ত্রিপুরাসুন্দরীর মনে দৃঢ়মূল হইয়াছিল । প্রকৃতপক্ষে মহৰ্ষির চরিত্রে এইরূপ অভাবনীয় সন্দিগ্ধ মনোবৃত্তি স্ত্রীস্বভাবসুলভ পাত্রাপত্রের বিচারশক্তির অভাবেই সম্ভব হইয়াছিল যাহা হউক কাকিমার তাদৃশ আচরণের মূলে এই সন্দেহ সুদৃঢ়ই ছিল। মহৰ্ষির সদর খাজাঞ্চি প্রতিমাসে মাসহারা দিতে যাইতেন ; তাহার মুখে শুনিয়াছিলাম, কাকিম৷ হাজার টাকার একখানি নোটই পছন্দ করিতেন, তাহাও বিশেষ পরীক্ষা করিয়া লইতেন । একবার কাকিম জোড়াসাকোয় আসিলে মৃণালিনী দেবী না-ছোড় হইয়া তাহাকে ধরিয়া বসিলেন ; বলিলেন, “কাকিম, আপনি বারবার আসেন যান, একবারও কিছুই খান না ; আমি নিজেই মিষ্টান্ন তৈরি করেছি, তা আজ খেতেই হবে ।” বউমার এই অভাবনীয় সনির্বন্ধ আবদারে কাকিম বিপন্ন হইয়া পড়িলেন, নানা উপায়ে বউমাকে নিরস্ত করার চেষ্টাও করিলেন ; কিন্তু বউমার আবদার এড়াইতে পারিলেন না । কাকিমার নিমরাজ ভাব বুঝিয়া সুচতুর বউমা কালবিলম্ব করিলেন না, তখনই বড়ো পাত্রে ভরা নানাবিধ মিষ্টান্ন আনিয়া কাকিমার হাতে দিলেন ; বউমার এইরূপ ক্ষিপ্ৰ আয়োজনে কাকিমার আর না-না বলিবার উপায় রহিল না। অনন্তোপায় হইয়া পাত্র লইয়া উপবিষ্ট বধূদিগকে মিষ্টান্ন কিছু কিছু পরিবেশন করিয়া অবশিষ্ট কিঞ্চিৎ ভক্ষণ করিলেন। মিষ্টারে যদি কিছু প্রাণনাশক মিশ্রিত। Slio ১২৯