পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মনস্বিনী জননী প্রতিদিনই আশ্রমবাসীদের জন্য নিজের অভিমত নানা আহার্যের ব্যবস্থা করেন, কোনো বিষয়েই ত্রুটি হয় না।” ভ্রাতৃভাব শিষ্টাচার সংযম নিয়মনিষ্ঠ বিলাসবর্জন প্রভৃতি আশ্রমের আদর্শভূত সদগুণে বালকগণকে শৈশব হইতে মানুষ করিয়া গড়িয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতি অক্ষুন্নভাবে রক্ষা করার নিমিত্ত মৃণালিনী দেবী কঠোর পরিশ্রম করিয়াছিলেন । ইহার তীব্র আঘাত তাহার অনভ্যস্ত শরীরবন্ধ সহা করিতে পারিল না, ফলে স্বাস্থ্যভঙ্গ দেখা দিল এবং ক্রমে সাংঘাতিক রোগে পরিণত হইল। চিকিৎসার্থে তিনি কলিকাতায় নীত হইলেন ; স্থবিজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসায় মারাত্মক রোগের কিছুমাত্র উপশম হইল না ; সাংঘাতিক আক্রমণে আশ্রমজননীর জীবিতকাল ক্রমে নিঃশেষ হইল । ‘ধরার সঙ্গিনী’র সঙ্গ সাঙ্গ হইল! শ্বশুর স্বামী পুত্র কন্যা জামাতায় সাজানো সোনার সংসার ভাঙিয়া গেল— গৃহস্থতার অবসান হইল । প্রায় দুই মাস মৃণালিনী দেবী শয্যাশায়িনী ছিলেন। রোগশয্যার পার্থে বসিয়া কবি এই দীর্ঘকাল পীড়িত পত্নীর যেরূপ সেবা-শুশ্ৰষা করিয়াছিলেন, তাহা কদাচিৎ কোনো সৌভাগ্যবতী আয়ুষ্মতীর ভাগ্যে সম্ভব হয়। অর্থবিনিময়ে সেবাকারিণীর অসদ্ভাব তখন না হইলেও, তাদৃশ ব্যবস্থায় পাছে কোনো ক্রটিতে রোগিণীর রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়, এই সন্দেহেই জীবনান্ত পর্যন্ত কবি পত্নীর সেবাশুশ্রুষা স্বহস্তে গ্রহণ করিয়াছিলেন । বৈদ্যুতিক পাখা তখন ছিল না, হাতপাখার বাতাসে দিনের পর দিন কবি রোগিণীর রোগজালা প্রশমিত করিয়াছিলেন। পতি-পত্নীর প্রণয়বন্ধনের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত জীবনান্ত পর্যন্ত কবির এই অক্লান্ত সেবা । ১৩০৯ সালের ৭ অগ্রহায়ণ রবিবারে নিশীথসময়ে মৃণালিনী দেবী পরলোকগমন করেন । পত্নীর জীবিত বসানের পরে রোগশয্যা ত্যাগ করিয়া কবি একাকী ছাদে চলিয়া যান ; সমস্ত রাত্রি ছাদেই কাটিয়া যায় । পুত্রবধুর মৃত্যু-সংবাদ শুনিয়া মহৰ্ষি বলিয়াছিলেন– “রবির জন্ত চিন্তা করি না, (ס\9\ מי