পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুরনো দাসী পাঠিয়ে তাদের স্বছন্দে নির্বাচন করে আনা হত। পূর্বপ্রথানুসারে রবিকাকার কনে খুঁজতেও তার বউঠাকুরানীরা, তার মানে মা আর নতুনকাকিমা, জ্যোতিকাকামশায় আর রবিকাকাকে সঙ্গে বেঁধে নিয়ে যশোর যাত্রা করলেন। বলা বাহুল্য আমরা দুই ভাইবোনেও সে-যাত্রায় বাদ পড়ি নি। যশোরে নরেন্দ্রপুর গ্রামে ছিল আমার মামার বাড়ি । সেখানেই আমরা সদলবলে আশ্রয় নিলুম। সেই বোধ হয় আমার জীবনে প্রথম গ্রাম দেখা । পরেও এ বিষয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞতা হয় নি। একটি বড়ো আঙিনার চারি দিকে চারটি আলাদা ঘর নিয়ে বাড়িটি তৈরি . . . যদিও এই বউ-পরিচয়ের দলে আমরা থাকতুম না, তা হলেও শুনেছি যে তারা দক্ষিণডিহি চেঙ্গুটিয়া প্রভৃতি আশেপাশের গ্রামে যেখানেই একটু বিবাহযোগ্য মেয়ের খোজ পেতেন সেখানেই সন্ধান করতে যেতেন। কিন্তু বোধ হয় তখন যশোরে সুন্দরী মেয়ের আকাল পড়েছিল, কারণ এত খোজ করেও বউঠাকুরানীরা মনের মতো কনে খুঁজে পেলেন না। আবার নিতান্ত বালিকা হলেও তো চলবে না । তাই অবশেষে তারা জোড়াসাকোর কাছারির একজন কর্মচারী বেণী রায় মশায়ের অপেক্ষাকৃত বয়স্থা কন্যাকেই মনোনীত করলেন। তার বাপের বাড়ির নাম ছিল ভবতারিণী, শ্বশুরবাড়ি এসে তার নাম বদলে মৃণালিনী রাখা হল, বোধ হয় বরের নামের সঙ্গে মিলিয়ে । রূপে না হলেও গুণে তিনি পরবর্তী জীবনে শ্বশুর বাড়ির সকলকে আপন করতে পেরেছিলেন, এ কথা সেকালের অনেকেই জানেন । এই যশোরযাত্রার যে বীজ বপন করা হয় সেটির ফল ফলে ১৮৮৩ খ্রীস্টাব্দে। রবিকা’র বয়স যখন বছর-বাইশেক হবে, তখন তিনি আমাদের সঙ্গে বোম্বাইয়ের কারোয়ার বন্দরে ছিলেন। সেখানে থাকতেই বিয়ের জন্ত্যে বাড়ি থেকে তার ডাক পড়ে |• • • কাকিমার কথা আগেই বলেছি যে, তিনি স্নেহমমতাময় আমুদে মিশুক প্রকৃতির গুণে পরিবারের সকলকে সহজেই আপন করতে পেরে >Wう@。