পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দিতেন কবি প্রতি কথায়, বলতেন—অসভ্য দেশের মানুষরাই মুখ চিত্তির’ করে। মুখে রঙ মেখে মেয়েরা কি অসভ্য দেশের মানুষ সাজতে চায় ? আমাদের ধরাধরিতে একদিন কবিপত্নী কানে দুটি দুল ঝোলানো বীরবেলি পরেছিলেন, হঠাৎ কবি এসে পড়েন সেই সময় ঘরে, কবির প্রবেশমাত্র লজ্জা পেয়ে তিনি দুই কানে দুই হাত চাপা দিলেন। টানাটানি করে আমরা হাত নামাতে পারলাম না কিছুতেই । তিনি এত কম গহনা ব্যবহার করতেন যে দুটি বীরবেলি কানে পরেই লজ্জা পেলেন খুব বেশি। সমবয়সী বোঁদের সাজতে বলবেন কিন্তু নিজে সাজবেন না এই ছিল তার ভাব । বড়ো বড়ো ভাস্করপো ভাগ্নের চারি দিকে ঘুরছে— আমি আবার সাজব কি – তার নিজের মুখের কথা । কবি, পিতার শেষ সন্তান বয়োজ্যেষ্ঠ ভাগিনেয় ও সমবয়স্ক ভ্রাতুষ্পুত্র ছিল তার কয়েকজন । কবিপত্নী একবার সাধ করে সোনার বোতাম গড়িয়েছিলেন কবির জন্মদিনে কবিকে পরাবেন বলে । কবি দেখে বলেন, ছি ছি ছি, পুরুষে কখনো সোনা পরে— লজ্জার কথা ! তোমাদের চমৎকার রুচি ! কবিপত্নী সে বোতাম ভেঙে ওপাল-বসানো বোতাম গড়িয়ে দিলেন । দু-চার বার কবি সেটি ব্যবহার করেছিলেন যেন দায়ে পড়ে । কবির পছন্দ সাধারণ থেকে স্বতন্ত্ৰ— বুঝতে সময় লাগে । বিদ্যালয়-স্বচনার পূর্বে শান্তিনিকেতন আশ্রমের সাবেক বড়ো কুঠিটিতে কবির পরিবার ও আমরা একত্র বাস করেছি অনেক সময় । গৃহস্থালির ভার থাকত কবিপত্নীর, তাকে গৃহকর্মে সাহায্য করার ভার আমার । সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ, খাদ্যদ্রব্য সংগ্রহ, ব্যয়ের হিসাব রাখার ভার আমার স্বামীর। খাওয়া হত চমৎকার, কবিপত্নীর রান্নার ও মিষ্ট্রান্নাদি প্রস্তুতের বিরাম ছিল না একদিনও । কবি থেকে থেকে পত্নীকে বলতেন, “নীচে বসে লিখতে লিখতে রোজ শুনি, চাই ঘি, চাই স্বজি, চিনি চিড়ে ১৪২