পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ময়দা, মিষ্টি তৈরি হবে । যত চাচ্ছ তত পাচ্ছ, মজা হয়েছে খুব ।” আমার স্বামীর নাম করে বলতেন, “সে তো কখনো 'না' বলবে না। যত চাইবে ততই দেবে । তার মতো কর্তা ও তোমার মতো গিন্নী হলেই হয়েছে আর কি, দু-দিনে ফতুর।” কবিপত্নী ভাস্করপুত্রের (আমার স্বামীর ) নাম করে বলতেন, “সে সংসার বোঝে, তার সঙ্গে কাজ করে সুখ, তোমার এদিকে নজর দেওয়া কেন ।” f কবিপত্নীর রান্নার হাত ছিল চমৎকার। ব্যঞ্জনাদির স্বাদ ও মিষ্টান্নাদির পাক তার হাতে উৎরাত উৎকৃষ্ট হয়ে । কবির জন্য প্রায়ই তিনি ঘরে নানানতরো মিষ্টান্ন তৈরি করতেন নিজের হাতে। চি ড়ের পুলি, দইয়ের মালপো, পাকা আমের মিঠাই তার হাতের একবার র্যারা খেয়েছেন তারা আর ভোলেন নাই। নাটোরের ভূতপূর্ব মহারাজা স্বৰ্গীয় জগদিন্দ্রনাথ রায় কবিপত্নীর হাতের তৈরি দইয়ের মালপোর ভূয়সী প্রশংসা করতেন । নূতন নূতন রান্না আবিষ্কারের শখ কম ছিল না কবিরও। বোধ হয় পত্নীর রন্ধনকুশলতা এ-সম্বন্ধে তার শখ বাড়িয়ে দিত বেশি। রন্ধনরত পত্নীর পাশে মোড়া নিয়ে বসে নূতন রান্নার ফরমাস করছেন কবি, দেখা গেছে অনেক বার। শুধু ফরমাস করেই ক্ষান্ত হতেন না, নূতন মালমসলা দিয়ে নূতন প্রণালীতে পত্নীকে নূতন রান্না শিখিয়ে কবি শখ মেটাতেন । শেষে তাকে রাগাবার জন্যে গৌরব করে বলতেন, “দেখলে তোমাদের কাজ তোমাদেরই কেমন একটা শিখিয়ে দিলুম।” তিনি চটে গিয়ে বলতেন, “তোমাদের সঙ্গে পারবে কে ? জিতেই আছ সকল বিষয়ে ।” সংসারে এক উপদ্রব বাধাতেন কবি নিজের খাওয়ার ব্যাপার নিয়ে । থেকে থেকে খাওয়া এত কমিয়ে ফেলতেন যে কাছের লোকে চিন্তিত না হয়ে থাকতে পারত না । করো চিন্তা, বলে যা খুশি, কবি নিজের ইচ্ছায় ভর করেই চলেছেন। জন্ম হতে অটুট স্বাস্থ্য পাওয়ায় ও বয়সের জোর থাকায় শরীর তখন এই-সব উপদ্রব সহ করেছে অনেকটা অনায়াসে । ঘরের লোকের > 8 O