পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ধারণা, খেয়ালের বশে কবি স্বল্পাহারে শরীর নষ্ট করছেন ; কাজেই এই ব্যাপার তারা উপদ্রব বলেই গণ্য করতেন। কবি যে শরীরের উপযোগী খাদ্য না খুঁজে মনের উপযোগী খাদ্য খুঁজে নিচ্ছেন এ কথা বোঝা যেত না তখন স্পষ্ট করে । ঘরের মানুষ— র্যাদের লক্ষ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি, র্তারা এমনতরো বেীকালো লোক নিয়ে বেগ পেতেন সর্বদা । স্বল্পাহারের বাড়াবাড়ি দেখে আমরা অনেক সময় কবি-পত্নীকে বলতাম, “বলুন-ন৷ কাকিম কাকামহাশয়কে বলকারক খাদ্য কিছু খেতে “ কবিপত্নী বলতেন, “তোমরা চেনো না, বললে জেদ আরো বাড়বে ; না খেয়ে দুর্বল হয়ে সিড়ি উঠতে মাথা ঘুরে পড়ুন আগে, তার পরে নিজেই শিখবেন –কারো শেখানে কথা শোনবার ধাতের মানুষ নন।” কবি বহু বৎসর নিরামিষভোজী ছিলেন । পত্নীবিয়োগের পর ঘরে যখন কবি নিরামিষভোজী, এমন-কি সময়ে সময়ে অন্নত্যাগ করে শুধু ছোলা ভিজানো, মুগডাল ভিজানো খেয়ে দিন কাটান, তখন কার্যস্থত্রে মাঝে মাঝে কবিকে পতিসরে যেতে হত ! কবির শাশুড়ী ঠাকুরানী তখন নিজগ্রাম যশোহর জেলার অন্তর্গত ফুলতলা ছেড়ে পুত্রের কর্মস্থান পতিসরে বাস করতেন । তিনি স্বহস্তে মাছের ব্যঞ্জনাদি রান্না করে জামাতার পাতে দিলে কবি না’ বলতেন না । কন্যা নাই, পাছে তিনি মনে কষ্ট পান ভেবে নিজের ইচ্ছা সেখানে কবি খর্ব করতেন । সঙ্গের ভূত্য উমাচরণ ফিরে এসে আমাদের কাছে গল্প করত, “এখানে বাবুমশায় খাওয়া নিয়ে এত গোলমাল করেন, পতিসরে কিন্তু শাশুড়ী ঠাকরুন যা দেন তাই খান ; একটি কথা বলেন না— শাশুড়ী কিনা !” ভৃত্যরা খুশি মনে সহজভাবে কবির সামনে কথা বলে, কবি সেটা ভালোবাসেন চিরদিন । ভয় পেয়ে ভূত্য কাজ করবে তিনি আদৌ পছন্দ করেন না। শান্তিনিকেতন কুঠির দোতলায় একদিন বিকেলে চায়ের টেবিলে কবি চা খেতে বসেছেন, ঘরে ভালো মিষ্টি কাকামহাশয়ের জন্তে তৈরি করা হোক > 88