পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কবিপ্রিয়াকে দেখব । সেদিনের কথাটি এখনো বেশ মনে আছে । দিদি র্যার কাছে আমায় নিয়ে গিয়ে বললেন “কাকিমা, এটি আমার ছোটবোন", যিনি আদর করে আমায় কাছে টেনে নিয়ে বললেন “তোমার নাম কী ?” তিনি নিতান্তই সাদাসিবে একখানা শাড়ি পরে বসেছিলেন । গায়ে গয়নাও তেমন দেখলুম না । সাহস করে মুখের দিকে চাইলাম— এই কবিপ্রিয়া ! রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী, সেরকম তো ভালো দেখতে নন । আবার ভালো করে চেয়ে দেখলাম। তখন দেখি এক অপরূপ লাবণ্যে সমস্ত মুখখান যেন ঢল ঢল করছে, আর একটা মাতৃত্বের আভায় যেন মুখখানা উজ্জ্বল। একবার দেখলে আবার দেখতে ইচ্ছে হয় । সেই প্রথম দিন থেকেই আমি তার অনুগত হয়ে পড়লাম । তার পর প্রায়ই সে-বাড়ি গিয়েছি, দিদির সঙ্গে থেকেছিও কখনো কখনো । ক্রমেই বুঝতে লাগলাম তিনি খুবই অসাধারণ নারী । যে মাতৃত্বের আভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম তাই দিয়ে যেন শুধু নিজের ছেলেমেয়ে নয়— আত্মীয় স্বজন দাসী-চাকর সকলকেই আপন করে রেখেছিলেন । সাজগোজ বেশি কখনো করতেন না । কবিবর মহর্ষিদেবের কনিষ্ঠ সন্তান— ভাইপো-ভাইঝির কেউ সমবয়সী, কেউ-বা অল্পই ছোটো ; কিন্তু কবিপ্রিয়া এই সম্বন্ধের গুরুত্বটা যেন বেশ বুঝতেন। তিনি ‘কাকিমা’ ; মামিমা’, বড়ো বড়ো ছেলে-মেয়ে-বউদের সামনে আবার সাজ গোজ করবেন কী— এমনি যেন ভাবটা । রান্না করে মানুষ খাইয়ে বড়ো তৃপ্তি পেতেন । আমার দাদা যখনই যেতেন, সিড়ি থেকেই বলতে-বলতে উঠতেন “কাকিমা, আজ কিন্তু এটা খাব”, “আজ কিন্তু ওটা খাব” ; তক্ষুনি রান্নাঘরে গিয়ে সেটা তৈরি করতে বসতেন । কবির একটা অভ্যাস ছিল, সি*ড়ি থেকে স্ব-উচ্চ কণ্ঠে “ছোটোবউ ছোটোবউ” করে ডাকতে ডাকতে উঠতেন। আমার ভারি মজা লাগত শুনে, তাই বোধ হয় আজও মনে আছে। কবি অত্যন্ত ভোজনরসিক ছিলেন । খাওয়াটা যে শুধু পেট ভরাবার জন্য নয়, তাতেও যে শিল্পীমনের যথেষ্ট খোরাক আছে, তা তার খাওয়া 8న