পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেখলেই বোঝা যেত। তিনি জোজনপ্রিয় ছিলেন না, ভোজনরসিক ছিলেন, আমার মেজদিদিও রন্ধনপটু ছিলেন, কবিকে তিনি অনেক রকম খাবার করে খাওয়াতেন। একদিন তিনি একরকম মিষ্টি করেছিলেন, আমাদের বাঙাল দেশে তাকে বলে এলোঝেলো । কবি সেটা খেয়ে খুব খুশি হলেন ও তার নাম জানতে চাইলেন । নাম শুনে তিনি নাক সিটিকে বললেন, “এই সুন্দর জিনিসের এই নাম ? আমি এর নাম দিলাম পরিবন্ধ ।” সেই থেকে ঐ নাম আমাদের বাড়িতে চলে এসেছে । তখনকার দিনে তিনি গান রচনা করতেন একেবারে সুর কথা একসঙ্গে । বড়ো বারান্দায় পায়চারি করতে করতে যেই শেষ হল অমনি চিৎকার আরম্ভ করলেন, “অমলা, ও অমলা, শীগগির এসে শিখে নাও, এক্ষুনি ভুলে যাব কিন্তু ” কবিfপ্রয়া হাসতেন খুব, “এমন মানুষ আর কখনো দেখেছ অমলা, নিজের দেওয়া স্বর নিজে ভুলে যায় ?” কবি অমনি বলতেন, “অসাধারণ মানুষদের সবই অসাধারণ হয়, ছোটোবউ— চিনলে না তো !” আমার দিদির সঙ্গে কবিপ্রিয়ার খুব ভাব ছিল । দুজনে গল্প আরম্ভ করলে আর শেষ হত না । কবি নিজে এ নিয়ে খুব কৌতুক করতেন। একদিন হয়েছে কি, কবি তার ঘরে টেবিলে বসে লেখাপড়া করছেন আর শেবার ঘরে তাদের বিছানায় শুয়ে-শুয়ে কবিপ্রিয়া আর আমার দিদি খুব গল্প করছেন : এমন তন্ময় হয়ে গেছেন যে, কবি কখন যে এসে শিয়রে দাড়িয়েছেন কেউ টের পাননি । হঠাৎ মাথার কাছ থেকে বলে উঠলেন, “আমি আর কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকব ? আমার ঘুম পায় না ?” যেমন কথা কানে গেছে দিদি তো বিছানা থেকে লাফিয়ে পড়ে দে-ছুট উঠিপড়ি করে । কবি তখন খুব হাসছেন আর বলছেন, “অমলা, ও অমলা, অত ছুটো না, পড়ে যাবে যে ” আর পড়ে যাবে। একেবারে ছুটে এসে বিছানায় মুখ লুকিয়ে পড়ে আছেন। সকালবেলা দেখা হতে কবি একটু একটু হাসছেন আর বলছেন, “অত লজ্জা পাবার কী হল তোমার ? আমি তো বেশ উপভোগ করছিলাম ব্যাপারটা ।” У Ф. о