পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গায়ে থেকে-থেকে ঢেউগুলি এসে লাগছে এবং কুলুকুলু শব্দ করে স্রোতের সঙ্গে মিলিয়ে যাচ্ছে । চাদের আলো পড়ে নদীর জল কোথাও কোথাও ঝিকিমিকি করে ওঠে । কখনো দু-একটা জেলে-ডিঙিতে মাঝিরা ভাটিয়ালি স্বরে দাড় ফেলার তালে তালে গান গাইতে গাইতে চলে যায়। গানের আসর ভাঙবার আগেই আমি মার কোলে ঘুমিয়ে পড়তুম। • • •বাবা সমস্তদিন ধরে লিখতেন তার ঘরে— সেখানে আমাদের প্রবেশ নিষেধ— মা বারণ করে দিয়েছিলেন । লেখার বেণিক যখন বেশি চাপত তখন খাওয়া-দাওয়া এক-রকম ছেড়ে দিতেন । মা খুব রাগারগি করতেন কিন্তু তাতে কোনো ফল হত না । একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে : বাবা তখন সরলাদিদির উপর ‘ভারতী’র সম্পাদনভার ছেড়ে দিয়েছেন । কিন্তু তাতে র্তার ভার লাঘব বিশেষ-কিছু হল না। লেখার জন্য তার উপর দাবি সমানই থেকে গেল। প্রতিমাসেই সরলাদিদির কাছ থেকে তাগিদের চিঠি আসে । সরলাদিদি ভারতীর জন্য বাবাকে একটা প্রহসন লিখে দিতে বলেন কিন্তু বাবার সময় আর হয় না । এদিকে বড়ো লেখা না হলে সরলাদিদির চলে না, তাই তিনি গত্যন্তর না দেখে তার কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে বসলেন যে, পরের মাস থেকে ভারতীতে নিয়মিত রবীন্দ্রনাথের লেখা প্রহসন বেরোবে। ভারতীর পক্ষ থেকে ঔপন্যাসিক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় একটি চিঠিতে বাবাকে বিজ্ঞাপনের খবরটাও জানিয়ে দিলেন । চিঠি পেয়ে বাবা প্রথমটা একটু বিরক্ত হন । কিন্তু সরলাদিদিকে বিপদগ্রস্ত করতে পারেন না, কাজেই অবিলম্বে লেখায় হাত দিলেন । “আমি লিখতে যাচ্ছি— থাবার জন্য আমাকে ডাকাডাকি কোরে না’, এই বলে তিনি লিখতে বসে গেলেন। খেতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হয়, তাই খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে সমস্ত দিন ধরে লিখতে লাগলেন । মা মাঝে মাঝে ফলের রস বা শরবত র্তার টেবিলে রেখে আসতেন । যখনই এই প্রহসনের মাসিক কিস্তি পাঠাবার সময় হত, বাবা নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে লেখায় ডুবে যেতেন। (tన