পাতা:চিঠিপত্র (প্রথম খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একবার এরকম একটা মাসিক কিস্তি লেখা সবেমাত্র শেষ হয়েছে, বাবা মাকে বললেন, 'আমার গল্পটা লেখা শেষ হয়ে গেছে, আমাকে এখনি কলকাতায় যেতে হবে । এই কথা শুনে মা কিছুমাত্র আশ্চর্য হলেন না । তিনি জানতেন, কোনো লেখা শেষ হলে সাহিত্যিক বন্ধুবান্ধবদের সেটা যতক্ষণ না পড়ে শোনাচ্ছেন— বাবা স্বস্তি বোধ করতেন না । এই অভ্যাস র্তার বরাবর থেকে গিয়েছিল । গল্পটার তখন নাম দিলেন— ‘চিরকুমার সভা’। পরে এটা পুস্তকাকারে ছাপা হয়েছিল ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ নামে । এই নামটি বোধ হয় বাবার বিশেষ পছন্দ হয়নি । উপন্যাসটি যখন নাটকে পরিবতিত হল তখন তার নাম ‘চিরকুমার সভা'ই রইল । লেখার খাতা নিয়ে বাবা চলে গেলেন কলকাতায় । খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম ও তার উপর অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রমের ফলে সেবার এত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে তেতলার ঘরে উঠতে সিড়িতেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন । এই ঘটনার পর খাওয়া-দাওয়া সম্বন্ধে তার আর স্বাধীনতা রইল না, মায়ের ব্যবস্থাই তাকে মেনে চলতে হত । ...ইস্কুলের বেডিঙে আমি থাকব— মায়ের সেটা ভালো লগত না । বিশেষভাবে তার খারাপ লাগত ইস্কুলের রান্নাঘরের বামুনদের বিশ্ৰী রান্না আমাকে খেতে হচ্ছে মনে করে । কিন্তু বাবার বিশেষ ইচ্ছে আমি অন্যান্য ছেলেদের মতো বোডিঙে থাকি, তাই তিনি কোনো আপত্তি কখনো প্রকাশ করেন নি। বুধবার ছুটির দিন মা মনের আক্ষেপ মেটাতে চেষ্টা করতেন । বাড়িতে তিনি সেদিন নিজে রান্না করতেন— আমার সঙ্গে বোর্ডিঙের সব ছেলেরাই খেতে আসত। এই নিয়মিত খাওয়াতে কিন্তু আমাদের যথেষ্ট তৃপ্তি হত না— বেশি ভালো লগত যখন দল বেঁধে অসময়ে এসে মায়ের ভাড়ার ঘর লুট করে নিতে যে তুম। তিনি পরে জানতে পেলেও আমাদের কিছু বলতেন না । শান্তিনিকেতনে নিজেদের বাসের জন্য পৃথকৃ বাড়ি তখন ছিল না, > 9●